• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

সারের ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করেছে সরকার: জামায়াত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:০২
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:০২

968555487520

সারের ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করেছে সরকার: জামায়াত

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এতে প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের আত্মীয়-স্বজনদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সার ডিলার নিয়োগে বিএনপি চরম দলীয়করণ করেছে। সার সংকট সম্পর্কে সরকার জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়েছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে সংকটের অভাব নেই; যেখানেই হাত দেবেন, সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও নাগরিকদের ওপর। সার বিতরণ ও সার ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসব করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, একজনের দায়িত্ব থাকলেও কথা বলেন আরেকজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে। জেলায় গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। এ কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।’

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণে দেশে সার সংকট হচ্ছে। ডিলার নিয়োগে শর্ত মানা হয়নি। কিছু এলাকায় দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আমলে নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকা নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’ দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় সার সংকট হয়েছে এবং কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক জায়গার বাসিন্দাকে অন্য জায়গায় সারের ডিলারশিপ দিয়েছে বর্তমান সরকার। এমনকি কখনও সারের ব্যবসা না করেও অনেকে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ডিলারশিপ নিয়েছেন। ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দিয়েও ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দলীয় চাপের মুখে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় বিএনপির প্যাডে দেওয়া ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নামও পাওয়া গেছে।’

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরকারের কোনও মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়। হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সব ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।’

জামায়াতের ছয় দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলো হলো—

১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. সার সংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে।

৬. কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ৬-৭ মাসে সরকারের সর্বস্তরে দলীয়করণ ও দুর্নীতি এবং মন্ত্রীদের মিথ্যাচারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা চলছে।’ দুর্নীতিপরায়ণ ও দলীয়করণে নিমজ্জিত এই সরকারের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, স্বজনপ্রীতিমুক্ত ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নমুক্ত একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার তা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। এ জন্য বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিস্টদের মতো সারা জীবন ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে কর্তৃত্ববাদী সরকারের সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করতে ব্যস্ত হয়েছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের অনুমোদিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে চাই আমরা। কিন্তু সরকার সেটিকে উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর আদলে আবারও সবকিছু সাজাচ্ছে। এ জন্য সরকার চায় না যে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারে অংশগ্রহণ করুক। ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অপকৌশল আড়াল করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তাদের লক্ষ্য হলো আজীবন ক্ষমতায় থাকা, যা ফ্যাসিবাদী চিন্তার একটি সর্বনাশা পদক্ষেপ। আমরা এই সর্বনাশা চিন্তা থেকে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ফেরানোর চেষ্টা করবো।’ এই বিতর্ক রাজপথে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

দলীয় চাপের মুখে নিয়ম ভেঙে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এদিকে কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল; সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জনাব মোবারক হোসাইন, জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম; এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সেক্রেটারি জনাব আতাউর রহমান সরকার।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com