শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ইশরাক হোসেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ-সদস্য। তার বাবা অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। বাবার পরিচয়েই ইশরাকের রাজনীতির দরজা খুলে দিয়েছে। কিন্তু সেই দরজায় নিজের অবস্থান তৈরিতে তাকে করতে হয়েছে রাজপথের লড়াই।
বিএনপির দুঃসময়ে মামলা-হামলা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও সক্রিয় থেকে তরুণ বয়সেই সবার নজর কাড়েন ইশরাক হোসেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার লড়াই, পাঁচ বছরের আইনি সংগ্রাম এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষিত হওয়া-সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক উত্থান ছিল আলোচিত। পরে তিনি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসের মাথায় মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে তার উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হয় প্রতিমন্ত্রীর পদ।
১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম গ্রহণকারী ইশরাক হোসেন স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। তার বাবা সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংসদ-সদস্য। পুরান ঢাকার রাজনীতিতে তার ছিল শক্ত অবস্থান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তার পরিচয় ছিল সম্মান ও সমীহের। এমন একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসাবে ইশরাকের রাজনীতিতে আসা অস্বাভাবিক ছিল না। তবে বাবার পরিচয়ই তার উত্থানের একমাত্র কারণ নয়। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় হয়ে ওঠাই তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন ইশরাক। সংগঠনের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের দিকে তিনি দেশে ফেরেন। তখন বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ মামলা, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে। কর্মসূচি পালন করতে গেলেই বাধার মুখে পড়তে হতো। সেই সময়ে রাজপথে সক্রিয় হন ইশরাক। মিছিল-মিটিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিজেও হামলা ও ধরপাকড়ের মুখোমুখি হন। সংঘর্ষের মধ্যে কর্মীদের আগলে রাখার ঘটনাও তাকে আলোচনায় আনে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান ইশরাক। আসনটি ছিল তার বাবার রাজনৈতিক এলাকা। ওই সময়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে দলীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হন ইশরাক। নির্বাচনে বিএনপি ফল প্রত্যাখ্যান করে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে। তবে ২০১৫ সালের পর আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি একাধিক মামলার আসামি ও গ্রেফতার হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে এমপি হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। গত শনিবার অস্ত্রহাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বির্তকের মুখে পড়েন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।












