• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৯
আপডেট: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৯

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ
 

দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি। এই লেখা প্রকাশের সময় ভারত ও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, এ সফরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে, কিন্তু সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও অত্যন্ত দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের একটি অধ্যায় পেরিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করতে পারে কি না।

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবির্ভাব একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করেছেন। যে দেশের রাজনীতি তার জীবনকে গড়ে তুলেছে, সেই দেশ থেকে তিনি ছিলেন দূরে। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য গভীর আবেগের একটি মুহূর্ত। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরে দলটির নেতৃত্ব দেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সময়টি ছিল অসাধারণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা একটি দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। তার জানাজায় ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে এবং বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বিশাল, তবে জটিলও। তার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। তাদের উত্তরাধিকার বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। লন্ডনে কাটানো বছরগুলো তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনের অপেক্ষাকৃত আড়ালে থাকা একটি দিক তুলে ধরে। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে।

টাইম সাময়িকীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে স্বল্পভাষী ও অন্তর্মুখী হিসেবে দেখা গেছে। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল। বৃটেনে সাধারণ জীবনের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্বের চাপ ছাড়াই হাঁটাচলার সুযোগের কথা তিনি বলেছেন। দেশে ফিরে তিনি আবার রাজনৈতিক মঞ্চে এসেছেন। তবে একই সঙ্গে তাকে এমন এক জীবনে প্রবেশ করতে হয়েছে, যা নিরাপত্তা, দায়িত্ব ও জনসাধারণের প্রত্যাশা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে।বাংলাদেশ সংবাদ

২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে। ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পালাবদল সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তার কাঁধে দায়িত্বও পুরোপুরি এসে পড়েছে। এখন আর শুধু ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের নেতৃত্ব দেয়া তার কাজ নয়; বরং বিভক্ত একটি দেশ পরিচালনা করাই তার প্রধান দায়িত্ব।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম