• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আন্তর্জাতিক

ঘড়ির কাঁটা পেছালো ইউরোপে, বদলে গেল সময়ের হিসাব

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৮
আপডেট: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৮

ঘড়ির কাঁটা পেছালো ইউরোপে, বদলে গেল সময়ের হিসাব
 

ইউরোপে আজ থেকে আবারও সময়ের হিসাব বদলেছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ মহাদেশটির অধিকাংশ দেশে ২৫ অক্টোবর, রোববার ভোরে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতের শেষ প্রহরে যখন ঘড়িতে তিনটা বাজল, তখন সময় ফিরে গেল দুইটায়। পর্তুগালেও একই দিনে কার্যকর হয়েছে শীতকালীন সময়। ঘড়ির কাঁটার এই এক ঘণ্টার পেছনে রয়েছে শতবর্ষী ইতিহাস, জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রত্যাশা, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব এবং ইউরোপীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের একটি অসমাপ্ত বিতর্ক।

ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দেওয়ার অর্থ শুধু এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ নয়। এর অর্থ, আগামী কয়েক মাস ইউরোপের মানুষের সকাল-সন্ধ্যার সময়সূচি নতুনভাবে সাজবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সময়ের ব্যবধানেও পরিবর্তন আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার যুগেও বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর প্রয়োজন কতটা যৌক্তিক? যে ব্যবস্থা একসময় জ্বালানি সাশ্রয়ের আশায় চালু হয়েছিল, তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও কেন তা বহাল রয়েছে?

ইউরোপের সময় পরিবর্তনের বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে সামান্য। ঘড়ির কাঁটা মাত্র ৬০ মিনিট পিছিয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সময়ের পার্থক্যও এখন নতুন করে হিসাব করতে হবে। ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান পাঁচ ঘণ্টা। অর্থাৎ বাংলাদেশে দুপুর ১২টা হলে দেশগুলোর স্থানীয় সময় সকাল ৭টা। যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালের সঙ্গে ব্যবধান ছয় ঘণ্টা; বাংলাদেশে দুপুর ১২টা হলে সেখানে সকাল ৬টা। অন্যদিকে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রিস, ফিনল্যান্ডসহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান চার ঘণ্টা।রাজনৈতিক সংবাদ

এই হিসাব আন্তর্জাতিক ব্যবসা, অনলাইন সভা, সংবাদ সংগ্রহ, ব্যাংকিং কার্যক্রম কিংবা প্রবাসী পরিবারের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে কাজ করলে সময়সূচি হালনাগাদ করা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, ভার্চুয়াল বৈঠক এবং নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে হয় এমন কাজের ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার পরিবর্তনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের নিজস্ব সময় পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ সারা বছরই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুসরণ করে। পরিবর্তনটি ঘটেছে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে।

সময় পরিবর্তনের মূল ধারণা হলো, ঋতুভেদে দিনের আলোর সঙ্গে মানুষের কর্মঘণ্টার সামঞ্জস্য তৈরি করা। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত ইউরোপের অনেক দেশে দিনের আলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। এ সময় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দিলে সন্ধ্যায় তুলনামূলক বেশি সময় আলো পাওয়া যায়। একে বলা হয় সামার টাইম বা গ্রীষ্মকালীন সময়।
অন্যদিকে অক্টোবরের শেষ রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে স্বাভাবিক বা স্ট্যান্ডার্ড টাইমে ফিরে যাওয়া হয়। প্রচলিত ভাষায় একে উইন্টার টাইম বা শীতকালীন সময় বলা হয়।

ইউরোপে এই ব্যবস্থার ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে গ্রীষ্মকালীন সময় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকট নতুন করে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। ফ্রান্স ১৯৭৬ সালে এ ব্যবস্থা চালু করে। পশ্চিম জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও পরবর্তী সময়ে একই পথে হাঁটে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯৮০ সাল থেকে সময় পরিবর্তনের সময়সূচি সমন্বয়ের জন্য আইন প্রণয়ন শুরু করে। ২০০১ সাল থেকে কার্যকর বিধানের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময় শুরু ও শেষ করার অভিন্ন সময়সূচি নির্ধারিত হয়। বর্তমানে মার্চের শেষ রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া এবং অক্টোবরের শেষ রবিবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার নিয়মটি সেই কাঠামোর অংশ।

সময় পরিবর্তনের পক্ষে সবচেয়ে পরিচিত যুক্তি জ্বালানি সাশ্রয়। দিনের আলোকে কাজে লাগিয়ে সন্ধ্যায় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার কমানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু আধুনিক জীবনের বাস্তবতা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন শুধু বাতি জ্বালানোর হিসাব দিয়ে মানুষের জ্বালানি ব্যবহার নির্ধারণ করা যায় না। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, বৈদ্যুতিক গরম করার যন্ত্র, শিল্পকারখানা, পরিবহন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্বালানি ব্যবহারের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ফলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে দিলেই সামগ্রিকভাবে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো অঞ্চলে সন্ধ্যার আলো বাড়লে বিদ্যুতের ব্যবহার কমতে পারে; অন্য অঞ্চলে সকালে অন্ধকার বেশি সময় থাকায় আলো বা গরম করার যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তেও পারে। ঋতু, আবহাওয়া, মানুষের অভ্যাস এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ফলাফল নির্ভর করে।

অতএব, সময় পরিবর্তনের কার্যকারিতা বিচার করতে হলে শুধু ঐতিহাসিক যুক্তির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। দরকার হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বাস্তব জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের মূল্যায়ন।

ইউরোপের এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় কমিশনের জনমত জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশ বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিলের পক্ষে মত দেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৬ লাখ। জনমতের এই প্রবণতা ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করে।

২০১৯ সালের মার্চে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মৌসুমি সময় পরিবর্তন বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবটি ৪১০-১৯২ ভোটে পাস হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার্লামেন্টের সমর্থনই আইন কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সরকারকে প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিলের সঙ্গে ঐকমত্য প্রয়োজন ছিল।

সেখানেই তৈরি হয় অচলাবস্থা। কোন দেশ স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় রাখবে, আর কোন দেশ স্বাভাবিক সময়ে থাকবে—তা নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। দেশভেদে সময়ের ব্যবধান ও আন্তসীমান্ত যোগাযোগে সম্ভাব্য জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ ছিল। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউরোপের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে অন্য সংকটগুলো সামনে চলে আসে।

২০২৬ সালেও প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়নি। ইউরোপীয় কমিশন বিষয়টি নিয়ে আরও বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বন্ধের পক্ষে জনমত এবং পার্লামেন্টের অবস্থান থাকলেও অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপ।

এখানে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারণের একটি বাস্তব দিক স্পষ্ট হয়। জনমত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বহু দেশের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং পারস্পরিক সমঝোতার বিকল্প নেই।

সময় পরিবর্তনের বিতর্ক শুধু অর্থনীতি বা প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের ঘুম, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং শরীরের স্বাভাবিক ছন্দও এর সঙ্গে জড়িত। ঘড়ির কাঁটা বদলানোর পর কারও কারও ঘুমের রুটিনে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষ করে বসন্তে যখন এক ঘণ্টা এগিয়ে যাওয়া হয়, তখন ঘুমের সময় কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয় অনেকের।
অন্যদিকে শরৎকালে এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ঘুমের সুযোগ তৈরি হয়। তবে দিনের আলো সন্ধ্যায় কমে আসায় কর্মঘণ্টার পর বাইরের কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এসব প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। তাই সময় পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ উপকারী কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করা যুক্তিসংগত হবে না। বরং মানুষের ঘুম, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব কতটা, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশেরও একটি শিক্ষা নেওয়ার আছে। সময়ের হিসাব শুধু ঘড়ির কাঁটার বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে সময় পরিবর্তনের প্রশ্নটি ভিন্ন বাস্তবতায় বিচার করতে হবে। ইউরোপের নীতি হুবহু অনুসরণ করা কিংবা শুধু অন্য দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
একইভাবে ইউরোপের জন্যও জরুরি হলো, কয়েক দশক আগের উদ্দেশ্যকে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে পুনর্মূল্যায়ন করা। যদি সময় পরিবর্তন থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায়, তার প্রমাণ সামনে আসুক। আর যদি এর সুফল সীমিত হয়, অথচ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর বিলম্ব কেন?

অবশ্য সময় পরিবর্তন বন্ধ করার অর্থ এই নয় যে সব ইউরোপীয় দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই সময় অনুসরণ করবে। বরং স্থায়ী সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান, দিনের আলোর ধরন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। সমন্বয় ছাড়া একেক দেশের একেক সিদ্ধান্ত নতুন সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

২৫ অক্টোবরের এই পরিবর্তন তাই নিছক একটি ক্যালেন্ডারঘটনা নয়। এটি ইউরোপকে তার পুরোনো নীতি নতুন করে যাচাই করার সুযোগ দিচ্ছে। ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া সহজ; কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতি বদলানো অনেক কঠিন।

প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত এক ঘণ্টার নয়, যুক্তির। যে ব্যবস্থা মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল, তা যদি সময়ের সঙ্গে নিজের যৌক্তিকতা হারায়, তাহলে তাকে প্রশ্ন করা দরকার। ঐতিহ্যকে সম্মান করার অর্থ তার প্রতিটি অনুশীলন চিরকাল ধরে রাখা নয়। বরং প্রমাণ, বাস্তবতা ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার মধ্যেই আধুনিক রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা।

ইউরোপের ঘড়িতে আজ শীতকালীন সময় শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নীতিনির্ধারকেরা কবে সময়ের দাবি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম