• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

শিক্ষাঙ্গন

চাকসুর এক বছর: কিছু অর্জন, বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিই অপূর্ণ

প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০০
আপডেট: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০০

চাকসুর এক বছর - কিছু অর্জন, বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিই অপূর্ণ
 

শিক্ষার্থীদের আবাসন, যাতায়াত, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এক বছরে তিনটি হলের বর্ধিত অংশ সংস্কার করে ১৯৭ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালু, বাস সার্ভিস সম্প্রসারণ এবং মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স ও মিনি অপারেশন থিয়েটার যুক্ত করার মতো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সংসদটি।

তবে ৩৩ দফা ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো অনাবাসিক। শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি, বন্ধ হয়নি পাথর নিক্ষেপ, কাটেনি সেশনজট। পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, চিকিৎসক সংকট নিরসন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস ও অন-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থানের উদ্যোগও রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে তাই চাকসুর এক বছরের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কিছু অর্জনের পাশাপাশি সামনে এসেছে নানা সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতার চিত্র।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালু এবং শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল ইশতেহারে।

এর মধ্যে একটি শাটলের সব বগি সংস্কার এবং আরেকটি শাটলের বগি পরিবর্তন করা হয়েছে। চালু হয়েছে শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ। পাশাপাশি ই-কারের সংখ্যা বাড়ানো এবং ক্যাম্পাস থেকে শহরে বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। তবে শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি। একই সঙ্গে শাটলে পাথর নিক্ষেপের সমস্যারও সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে খাবারের মান ও মূল্য তদারকির জন্য ফুড সেল গঠন করা হয়েছে। চাকসু ও প্রক্টরিয়াল বডির যৌথ উদ্যোগে খাবারের দোকানগুলোতে অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং মিনি অপারেশন থিয়েটার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হয়েছে এবং চালু হয়েছে মিনি অপারেশন থিয়েটার। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পও আয়োজন করা হয়েছে।

তবে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবীমা চালুর উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। জিএস সাঈদ বিন হাবিব জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ে একটি ডিপিপি রয়েছে। সেটি পাস হলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

সেশনজট নিরসন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট উত্তোলনের ক্ষেত্রেও অটোমেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু হয়নি। সেশনজট নিরসনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিবিষয়ক কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করেছে চাকসু। গবেষণায় উৎসাহ দেওয়া এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে গঠন করা হয়েছে লিগ্যাল এইড সেল।

তবে গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ক্যাম্পাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন এখনো বাকি। অর্থাৎ কর্মশালা ও সেমিনারের মতো কার্যক্রম থাকলেও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

নিরাপদ ও গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানও পরিচালনা করেছে চাকসু।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এখনো বাস ও পরিবহনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে মাতৃত্বকালীন ছুটি, অনুষদভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেন্টার এবং দুগ্ধপান কর্নার-সংবলিত কমনরুম প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্যানেলটি। তবে সব অনুষদে এসব সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে টিএসসি ও কেন্দ্রীয় মিলনায়তন নির্মাণ এবং অন-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে টিএসসি নির্মাণের জন্য বাজেট পাস হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চাকসুর এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করলেও আবাসন, যাতায়াত ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ বলেন, দীর্ঘ বছর পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চাকসু গঠিত হলেও আবাসন ও যাতায়াতের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি। অন্যান্য বিষয়ে কাজ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনও এসেছে। তবে মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান খুবই জরুরি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনো শিক্ষার্থীরা বাস ও পরিবহনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাকসু প্রতিটি খাতে কিছু ভালো কাজ করেছে। তবে সেগুলো পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সর্বোচ্চ চেষ্টা করার দাবি জিএসের

চাকসুর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ১০ শতাংশ আবাসন নিশ্চিত করতে সোহরাওয়ার্দী হলের সম্প্রসারিত অংশ, পুরোনো শামসুন্নাহার হল এবং সূর্যসেন হলের তিনটি ব্লক সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাস হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবাসনের পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারে মিনি অপারেশন থিয়েটার স্থাপন এবং একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে একটি ডিপিপি রয়েছে। সেটি পাস হলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা যাবে। শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ অক্টোবর সপ্তম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯৯০ সালে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পাওয়া সংসদটির এক বছরের কার্যক্রমে কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর বড় অংশ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম