১। সভায় বিগত ২১ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পঠিত ও অনুমোদিত হয়। মহাসচিব সিদ্ধান্ত সমূহ সম্ভাবনাময় অগ্রগতি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।
২। সভায়, জ¦ালানী তেল, গ্যাস, পানি ও সকল নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচীতে পুলিশের গুলিতে ভোলায় আব্দুর রহিম ও নূরে আলম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সিগঞ্জে শাওন, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় নয়ন মিয়ার হত্যা, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে যশোরে আলীম, সিলেটে কামাল, পটুয়াখালির সাবেক এমপি শাহজাহান খানের হত্যার প্রতিবাদে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ প্রায় ৪০ লক্ষ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে চলমান বিভাগীয় গণ-সমাবেশ কর্মসূচীতে কুমিল্লা মহানগরের কুমিল্লা বিভাগের গণ সমাবেশ সফল করার জন্য কুমিল্লা বিভাগের জনগণ, কুমিল্লা বিভাগের বিএনপিসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সভা মনে করে এই সমাবেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনেকে আরও বেগবান করবে।
৩। সভায়, চলমান গণ-আন্দোলকে দমন করার লক্ষে অবৈধ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে ব্যাপক হারে পুনরায় সাজানো গায়েবী নাশকতা ও বিষ্ফোরক মামলা দিচ্ছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বড়ি তল্লাশী ও হয়রানী করছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক, মামলা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। একদিকে কোথাও বাধা দেওয়া হবে না বলেও নির্বিচারে আটক ও গ্রেফতার চালাচ্ছে পুলিশ। সভা এই ধরনের নিকৃষ্ট দমন নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
সভায় অবিলম্বে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা বন্ধ করে, মামলা গুলো প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় উদ্ভুদ পরিস্থিতির সকল দায় এই অবৈধ সরকারকে বহণ করতে হবে।
৪। সভায়, পূর্বে ঘোষিত ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ঢাকা বিভাগীয় গণ-সমাবেশের স্থান নির্বাচন নিয়ে এই অবৈধ সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় পূর্বে ঘোষিত ১০ ডিসেম্বরের গণ-সমাবেশ নয়া পল্টনে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত পূর্ণব্যক্ত করা হয়। সকল দূরভিসন্ধি, বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে রাজশাহী ও ঢাকায় গণ-সমাবেশকে সকল করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়।
৫। সভায়, গত একযুগে সীমাহীন দূর্নীতির শিকার দেশের রাষ্ট্রয়ত্ব ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ ক্রমশ: দূর্বল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কয়েকটি কাগুজে কোম্পানীকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ঘটনা গণ-মাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিকল্পিত ভাবেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে নজীরবিহীন দূর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। অর্থনীতি চরম ভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।
সভায়, সামগ্রিক আর্থিক খাত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরী করে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৬। সভায়, সিলেট মহানগরের বিএনপি’র সাংগঠনিক ওয়ার্ড ২৭ থেকে ৪২টি ওয়ার্ড বর্ধিতকরনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
৭। সভায়, কয়েকটি সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
৮। সভায়, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় গ্রেফতারকৃত মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, একই আইনে সাবেক রাজবাড়ির স্মৃতি বেগম এবং মুন্সিগঞ্জের সদস্য সচিব জনাব কামরুজ্জামান রতনসহ আটককৃত সকল নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি করা হয়।
৯। সভায়, বিস্তারিত আলোচনা শেষে সভাপতি উপস্থিত সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।













