নিউজ ডেস্ক
সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যেই মতবিরোধ চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও দুই কমিশনার তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই, এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ধারণাপত্রে যা বলা হয়েছে সেটি সিইসি’র একান্তই ব্যক্তিগত মত। এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই। ধারণাপত্রের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ধারণাপত্রের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেছেন, ধারণাপত্রটি সিইসি নিজেই লিখেছেন।
এতে তার ব্যক্তিগত মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো মতামত নেয়া হয়নি। অথচ আমি নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই, এই কথার কোনো ভিত্তি নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নির্বাচন কমিশনারও একই কথা জানিয়ে বলেন, ধারণাপত্রের বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছেন। পত্রটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ধারণাপত্রে সিইসি’র বার্তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিদ্যমান।
এদিকে গতকাল নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে ধারণাপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে সিইসি’র মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ধারণাপত্রের বিষয়ে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান। তিনি সিইসি’র ধারণাপত্রকে বাস্তবসম্মত মনে করেন। ভোটকে সামনে রেখে পরিবেশ ভালো রয়েছে দাবি করেছেন তিনি। তবে নির্বাচনের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল সেটি এখনো সৃষ্টি হয়নি বলেও মনে করেন এই কমিশনার।
এক প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবিব বলেন, ‘একজন সম্মানিত নির্বাচন কমিশনার উনার কথা বলেছেন। আমার কথা হচ্ছে তিনি সম্মানিত একজন ব্যক্তি। নির্বাচন কমিশনে সমন্বয়হীনতা নেই। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আছে। ভোটের পরিবেশ থাকবে না কেন, আমি বুঝতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধারণাপত্রের সম্পূর্ণটা পড়েন। তারপরে দেখেন ওখানে কোনো অসত্য কথা লেখা আছে কিনা। সম্ভবত ফাইল অনুমোদনের কথা ছিল বলে আমি জেনেছিলাম। এরপরে কি হয়েছে আমি ঠিক বলতে পারবো না। এটা সিইসি মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।’
এই কমিশনারের ভাষায়, ‘অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেটি এখনো হয়ে ওঠেনি বলা হয়েছে। সব সময় কী একই রকম পরিবেশ থাকে? অতীতে কী কখনো শতভাগ অনুকূলে ছিল?’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন কমিশনার বলেছেন, অবশ্যই উনি যুক্তিসঙ্গতভাবে বলেছেন। কিন্তু আমি যেটা বলছি, প্রত্যাশিত পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ রকম প্রত্যেকটা নির্বাচনেই কিন্তু বলা হতো।’
ওদিকে আগামী ২৬শে অক্টোবর গণমাধ্যম সম্পাদকদের এক কর্মশালার আয়োজন করছে ইসি। এতে অতিথিদের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে একটি ধারণাপত্রও পাঠিয়েছেন সিইসি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে সরকার ও কমিশনের বিষয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দলের গণমাধ্যমে প্রচারিত অনাস্থা কাটিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনগণের আস্থা অর্জনের প্রয়াস আমরা অব্যাহত রেখেছি। তবে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল সেটি এখনো হয়ে ওঠেনি। প্রত্যাশিত সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে মতভেদের নিরসন হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানতম দলগুলো স্ব স্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থানে অনড়। রাজপথে মিছিল, জনসমাবেশ ও শক্তি প্রদর্শন করে স্ব স্ব পক্ষে সমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ওতে প্রত্যাশিত মীমাংসা বা সংকটের নিরসন হচ্ছে বলে কমিশন মনে করে না। বিষয়টি রাজনৈতিক। নির্বাচন কমিশনের এক্ষেত্রে করণীয় কিছু নেই।













