পাবনা জেলা জেলা সভাপতি-সম্পাদককে কারণ দর্শানোর কেন্দ্রের নোটিশ
পাবনা প্রতিনিধি
গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে খেয়াল খুশিমতো একের পর এক উপজেলা কমিটি করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলু ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। একাধিকবার সতর্ক করার পরেও কেন্দ্রের নির্দেশনা মানেননি তারা। অভিযোগ উঠেছে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি করেছেন জেলার শীর্ষ নেতারা। অনিয়মের কারণ জানতে চেয়ে গত ১ আগস্ট জেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, জুলাই মাসের ৩১ তারিখে জেলার সুজানগর উপজেলা ও আমিনপুর থানার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে দলটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। গঠনতন্ত্রে আহ্বায়ক কমিটি ৩১ সদস্যের বেশি করার নিয়ম না থাকলেও তারা সেটি করেছেন। নিয়ম না মেনে সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার ৩৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে পরে সেটি পরিবর্তন করে আবার একই তারিখ দেখিয়ে কমিটির সদস্য ৪৩ জন করা হয়েছে।
একইভাবে করা হয়েছে ওই থানার একাধিক ইউনিয়ন কমিটিও। রানীনগর ইউনিয়ন কমিটিও ঘোষণার পর পছন্দের লোক বাদ পড়ায় তা পরিবর্তন করে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে সাঁথিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩১ সদস্যের বাইরে ৫৪ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে এমন অনিয়মের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটি।
এদিকে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগে সদ্য ঘোষিত সাঁথিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রায় সকল যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৫৪ সদস্যের প্রায় অর্ধশত সদস্যই পদত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে যোগ্যতা বিচার ছাড়াই কমিটিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জামায়াত-বিএনপি নেতার স্বজনদেরকেও দেয়া হয়েছে শীর্ষ পদ।
সাঁথিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি হাসান রুবেল বলেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন গোপনে প্রায় ২২ লাখ টাকা নিয়ে শীর্ষ পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শামসুল হক স্বপন প্রামাণিককে। অনিয়ম দুর্নীতির এই কমিটি তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নেয়নি। কমিটি প্রত্যাখান করে ৫৪ সদস্যের প্রায় ৫০ জনই পদত্যাগ করেছেন। ত্যাগী কর্মীদের গুরত্ব না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে আজ্ঞাবহ লোকেদের কাছে পদ বিক্রি করেছেন রুহুল আমিন। সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলুও এই অনিয়মে বাধা দেননি।
বেড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রুবেল রহমান বলেন, গত ৩১ তারিখে আমিনপুর থানায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেয়া হয়েছে। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করেছেন বেড়া যুবদলের আহ্বায়কের শ্যালককে। তার কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। পূর্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগ করার মতো কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। অথচ তাকে এই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে রাজনীতি করলেও আমি অবহেলিত।
এদিকে কমিটি গঠনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত না নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারাও।
আমিনপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী খান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের থানা কমিটির ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে এরকম কিছু হতে পারে আশঙ্কা থেকে আমারা সবার মতামতের ভিত্তিতে সমন্বয় করতে বলেছিলাম। যেন দল সুসংগঠিত হয়। তারা সেটি করেনি।
পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, আমার কোন মতামত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেয়নি। তড়িঘড়ি করে রাতারাতি তারা কেনো কমিটি করলেন সেটিও আমার বোধগম্য নয়। আবার সেটি নিয়ম মেনেও করা হয়নি। যোগ্য অনেককে বাদও দেয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নেতাকর্মীদের মাঝে একটি বিভাজন সৃষ্টি করবে। এই সময়ে এটি দলের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।
পাবনা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুলের আমিন জানান, কমিটির সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। সেটির জবাব কেন্দ্র চেয়েছেন, আমরা দিয়েছি। বাকিটা সংগঠন বুঝবে। এছাড়া কমিটি করতে গেলে স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের সকলেই চান তার পছন্দের লোক কমিটিতে থাকুক। কিন্তু এখানে পদসংখ্যা তো নির্দিষ্ট। যাদের দেয়া সম্ভব হয় না তারা ক্ষুব্ধ হন। আমাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সাবেক ছাত্রনেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে যোগ্য লোকদেরকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পদবাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযোগের ব্যাপারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলু বলেন, কাজ করলে অভিযোগ থাকবেই। অনেক সংগঠন সমালোচনা বা অভিযোগের ভয়ে কমিটিই দিচ্ছেন না। আমরা দিচ্ছি অভিযোগ আসছে। সংগঠন কারণ জানতে চেয়েছে। আমরা তার ব্যখ্যা দিব। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।












