একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা অমিত হাসান অনিকের মা হাওয়া বেগম। যখনই জ্ঞান ফিরছে, তখনই ‘আমারে কে মা ডাকবে আর?’ বলে চিৎকার দিয়ে আবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। অনিকের বাবা আমির হোসেনও নির্বাক। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছেন, চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরছে।
অমিত হাসান অনিক ছিলেন রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ছাত্রদলের সভাপতি। পরিবারসহ বাস করতেন কাঞ্চন পৌরসভার চরপাড়া এলাকায়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জোবায়েদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩, ২০২২, রাতে, ছাত্রদলের মশাল মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মিছিল শেষে ফেরার পথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এসময় অনিক মারা যান ও আরো অনেকে আহত হন। জানাজার পর অনিকের লাশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তাঁর বাড়িতে যেতে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা বাধা দেয়।
রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান ভুইয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে এশিয়ান বাইপাস সড়কে টেংরারটেক এলাকায় ছাত্রদল মশাল মিছিল বের করে। তারা মিছিল শেষে ফেরার পথে ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রাশেদ ভুঁইয়া ও ইকবাল শিকদারের নেতৃত্বে কর্মীরা ছয়-সাতটি মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এ সময় গুরুতর আহত হন অনিক এবং মারা যান। এ হামলায় ছাত্রদলের আবু হানিফ, অপু মিয়া, আমির হোসেন, আব্দুল হালিম, সানি, হৃদয় মীর, রাশেদুল মোল্লাও আহত হন।
তিন বোনের একমাত্র ভাইয়ের চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বোনেরা। তাঁর বড় বোন আঞ্জুমান বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় ভাইটি চলে গেছে নির্মমভাবে।












