• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ সাকিব অন্ধত্বের পথে, চান সহায়তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৪ ৮:০৭
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৪ ৮:০৭

966969600

ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ সাকিব অন্ধত্বের পথে, চান সহায়তা

নীলফামারী প্রতিনিধি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন সাকিব (২০)। তার বাম চোখে ছররা গুলি এসে আঘাত হাতে। ফেটে গেছে চোখের রেটিনা। এখন দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কায় সৈয়দপুরের উদীয়মান এই বাহাতি অর্থডক্স স্পিনার। উন্নত চিকিৎসায় অনেক টাকার প্রয়োজন। যা বহন করা পরিবারের জন্য সম্ভব না হওয়ায় দুশ্চন্তিায় পড়েছেন তার বিধবা মা।

জানা যায়, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত ১৮ জুলাই সৈয়দপুর শহরে মিছিল করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শহরের পাঁচমাথা মোড়ের সমাবেশে সমন্বয়করা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় আচমকা এলোপাথারি গুলিবর্ষণ করতে শুরু করে পুলিশ।

অতর্কিত হামলায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ছুটোছুটি করে পালাতে থাকেন। এ সময় ছররা গুলি এসে আঘাত হানে সাকিবের শরীরে। গুরুতর আহত হন কারমাইকেল কলেজের এ শিক্ষার্থী। তিনি অনার্স ব্যবস্থাপনা বিভাগেরর প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।

তার মাথায় আটটি, বাম চোখে ও নাকে একটি করে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। তৎক্ষাণাৎ সৈয়দপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়। এর দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে অপারেশনে চোখ থেকে গুলি বের করতে সমর্থ হন চিকিৎসক। তবে গুলিতে রেটিনা ফেটে যায়।

চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অথাভাবে এখনো ভারতে যাওয়া হয়নি ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই যোদ্ধাকে। বর্তমানে চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে চোখের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরে সাকিবের পৌরসভার কাজিপাড়াস্থ বাড়িতে সরেজমিনে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে আছেন এই ক্রিকেটার। তার বাম চোখ ব্যান্ডেজে মোড়ানো। চোখে সানগ্লাস। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।

সাকিব বলেন, ওই দিন পুলিশের ছোড়া প্রথম গুলির শিকার হই আমি। এরপর অন্যরা। দেশের চিকিৎসা শেষ। মা ও ভাই ঋণ করে দেড় লাখ টাকার যোগান দিয়ে ঢাকায় চিকিৎসা করিয়েছেন। এখনতো সব শেষ। চোখটিও ভালো হলো না। কিছুই দেখতে পারি না। আর হয়তো ক্রিকেট মাঠে বল হাতে ফিরতে পারব না। কথায় শেষ না হতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি।

জাতীয় ক্রিকেটার মুখতার সিদ্দিকীর সিটি ক্লাবের এই ক্রিকেটারের আইডল দেশি পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদেরকে বহুবার মায়াবি ঘুর্ণি, কুইকার ও আর্মার ডেলিভারিতে বোকা বানিয়েছেন। তার এমন পারদর্শিতার দাপট এখন শুধুই স্মৃতি। মাঠে সুনাম কুড়ানো খেলোয়াড়টি আজ দেশকে বঞ্চনামুক্ত করতে শরীরের অমূল্য অঙ্গ চোখ হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।

সাকিবের ভাই সাজু হাসান দোকানের শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি জানান, মজুরি দিয়েই কোন রকমে পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে দিন যাপন করছি। এখন তার চিকিৎসার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাব? এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

মা আছিয়া খাতুন বলেন, সে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আন্দোলনে গেছে। পরে জানতে পারি তার বাম চোখে গুলি লেগেছে। এখন অনেক ঋণ করে চিকিৎসা করলাম। তাও সুস্থ হলো না। এখন কি করব? বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী সাকিবের মা।

সন্তানের চিকিৎসার জন্য ক্রীড়া বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন-বিত্তবান, সরকারের আর্থিক সহায়তা চান তিনি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com