• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজেন জব্বর

প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৬
আপডেট: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৬

96585696

ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজেন জব্বর

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে খালি হাতে পেঁয়াজু ভেজে এলাকায় চমক তৈরি করেছেন ১৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো. জব্বর। তার এই ব্যতিক্রমী কৌশলই এখন ব্যবসার প্রধান আকর্ষণ। কয়েক ধরনের ডাল, পেঁয়াজ, গাজর ও বেসন মিশিয়ে তৈরি করা তার পেঁয়াজুর স্বাদ যেমন জনপ্রিয়, তেমনি গরম তেলে হাত ডুবিয়ে ভাজার দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করেন দোকানে। ফলে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে তার দোকান।

বাঘা উপজেলার আমোদপুর মোড়ে অবস্থিত এই দোকানটি আগে পরিচালনা করতেন জব্বরের বাবা বাবুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তার হাতের পেঁয়াজু এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছে। বয়সের কারণে এখন আর তিনি আগুনের চুলার সামনে বসতে পারেন না। তাই দোকানের পুরো দায়িত্ব এখন ছেলের কাঁধে। তবে বাবার সুনামের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জব্বরের ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজার দৃশ্য।

জব্বর জানায়, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পেঁয়াজু বিক্রি হয় তার দোকানে। শীতকাল ও রোজার সময় বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। ১০০ গ্রাম পেঁয়াজুর দাম ৩০ টাকা, সে হিসাবে প্রতি কেজির মূল্য ৩০০ টাকা। রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকায় দুপুর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। অনেকেই ইফতারের পর এবং তারাবির নামাজ শেষে এসে পেঁয়াজু খান।

গরম তেলে হাত দেওয়ার বিষয়ে জব্বরের বক্তব্য, শুরুতে অল্প অল্প করে চেষ্টা করলেও এখন এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কখনো হাত পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি তার। এই দৃশ্য দেখতেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। অনেকেই দোকানে বসে গরম গরম পেঁয়াজু খান, আবার কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যান।

ক্রেতা রাব্বানী বলেন, জব্বরের হাতেই যেন জাদু আছে। তার মূল আকর্ষণ হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজা। এটি দেখতে বহু মানুষ আসে। দেখতে এসে অনেকেই পেঁয়াজুর স্বাদ নিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি জানান, জব্বরের বাবাও ভালো পেঁয়াজু বানাতেন, এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ছেলে।

আরেক ক্রেতা সোহেল বলেন, কয়েক ধরনের মসলা ব্যবহার করে সুস্বাদু পেঁয়াজু তৈরি করা হয় এখানে। স্বাদ ভালো হওয়ায় দোকানে সব সময় ভিড় লেগে থাকে। কড়াই থেকে পেঁয়াজু তুলতে না তুলতেই শেষ হয়ে যায়। গরম অবস্থায় খেতে বেশি মজা লাগে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, আমোদপুর ইসলামী একাডেমিতে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন জব্বর। সকালে স্কুল ও পড়াশোনা শেষ করে বিকেলে শুরু করেন ছোলা ও পেঁয়াজু বিক্রি। দোকানে এই দুটি পদই প্রধান। তবে ছোলার তুলনায় ভাজা পেঁয়াজুর চাহিদা বেশি। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা জব্বরকে এভাবে তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজতে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তার হাত পুড়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা শোনা যায়নি। স্বাদের কারণে এবং ভাজার কৌশল দেখতেই অনেক দূর থেকে মানুষ আসেন।

জব্বরের বাবা বাবুল ইসলাম বলেন, বহু বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন আগুনের চুলার পাশে বসা সম্ভব হয় না। তাই ছেলে পেঁয়াজু ভাজার দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি এখন দোকানের ক্যাশ বাক্সে বসে লেনদেন সামলান। ছেলের এভাবে পেঁয়াজু ভাজা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে চিকিৎসকদের দৃষ্টিতে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালর বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন সতর্ক করে বলেন, সামান্য আয়ের জন্য এ ধরনের কাজ করা বিপজ্জনক। এক-দুইবার হয়তো ক্ষতি নাও হতে পারে, কিন্তু একবার হাত পুড়ে গেলে তা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার মতে, এমন ঝুঁকি নেওয়া ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com