নিউজ ডেস্ক
মুন্সিগঞ্জের খিদিরপাড়া লৌহজং এলাকায় পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে কয়েকজন। তাদের সন্ধানে আজ রবিবার সকালে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা। বিআইডব্লিউটিএ এয়ার লিফটিং ব্যাগ এবং চেন কপ্পা পদ্ধতিতে ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে কোস্টগার্ড ও ফাযার সার্ভিসের ডুবুরা দুর্ঘটনার আশাপাশের নিখোঁজের সন্ধানে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্বজনরা নিজস্ব উদ্যোগে ট্রলার নিয়ে তালতলা-গৌরগঞ্জ খালে খোঁজাখুজি করছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে শনিবার সন্ধ্যা রাতে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও দুই শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসন ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আটক করা হয়েছে বালু বহনকারী ঘাতক বাল্কহেট। পদ্মার শাখা নদীতে বাল্কহেট চলাচল নিষিদ্ধ করা করার পরও কেন রাতে চলছিল তাই নিয়ে ক্ষোভ ভুক্তভোগীদের। সিরাজদিখান উপজেলার খেতেরপুর থেকে পিকনিকের ট্রলারটি পদ্মা সেতু এলাকা ঘুরে ফিরছিল।
এর আগে শনিবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মার শাখা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি পিকনিকের ট্রলার ডুবে যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় মিলেছে। মৃতদের মধ্যে শিশুসহ ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ।
উদ্ধার হওয়া মৃতরা হলেন- মোকসেদা (৪২), পপি (২৬), শাকিব (৮), হ্যাপি (২৮), রাকিব (১২), সাজিবুল (৪), ফারিহান (১০) ও সজীব। তারা সবাই সিরাজদিখান উপজেলার লতাব্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ দুর্ঘটনায় ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচজন। তাদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু শনিবার রাত হয়ে যাওয়ায় আর নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ডুবুরিদের উদ্ধার কাজ চালাতে বেগ পেতে হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারে এবার যোগ দিলো নৌবাহনীর ডুবুরি দল।
জানা যায়, পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্ট থেকে সিরাজদিখান এর দিকে যাচ্ছিলো পিকনিকের ট্রলারটি। রাত আটটার দিকে ঈদের পাড়া ইউনিয়নের রসকাটি এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকারে একটি বালুবাহী বাল্কহেড ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীসহ ডুবে যায় ট্রলারটি। এ সময় অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় বাকিরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রলারটিতে ৪৬ জন যাত্রী ছিল। এ ঘটনায় প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আরও দুই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৪ নারী ও ৪ জন পুরুষ। এদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই ট্রলারের যাত্রীদের স্বজনরা নদী পাড়ে চলে আসেন। সেখানে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা আহাজারি করছেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনলেই তারা সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিএ উপ-পরিচালক ওবায়দুল করিম খান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রালটি প্রায় ৭৫ ফুট দীর্ঘ। এর ওজন প্রায় ৭ মেট্রিক টন। এদিকে রবিবার সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক সাইদা তাপসী রাবেয়া লোপা জানান, মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। সকালে তারা অভিযানে অংশ নেয়।













