• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

শ্রীপুর ছাত্রদল নেতা মুন্সী সোহেলের বিরুদ্ধে শিক্ষক অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ৪:৪৯
আপডেট: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ৪:৪৯

JCD 1

শ্রীপুর ছাত্রদল নেতা মুন্সী সোহেলের বিরুদ্ধে শিক্ষক অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সী সোহেলের বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে অপহরণ ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক ফয়জুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার আবাইপুর রামসুন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি এই ঘটনায় ১৮ এপ্রিল ২০২৫ মাগুরার শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ১২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সী সোহেলের সঙ্গে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সোহেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলামিন, রাজ্জাক, শুকুর ও লিপ্টন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে সোহেলের নির্দেশে আলামিন ও রাজ্জাক শিক্ষক ফয়জুর রহমানের স্ত্রী শামীম লাকনুর কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ২ লাখ টাকার একটি চেক আদায় করেন। পরবর্তীতে তারা সেই অর্থ মুন্সী সোহেলের হাতে তুলে দেন বলেও স্বীকার করেছেন।

আলামিন ও রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা সোহেল ভাইয়ের নির্দেশে ফয়জুরের বাসায় গিয়ে টাকা ও চেক আনি। সবকিছু সোহেল ভাইয়ের কাছে জমা দিয়েছি।” তারা আরও দাবি করেন, এই টাকার একটি অংশ স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও ভাগ পান।

মাগুরা জেলা বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ছাত্রদল নেতা সোহেলের এই বেপরোয়া আচরণের পেছনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খাঁনের প্রশ্রয় রয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোহেল মনোয়ার খাঁনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা মানতে আগ্রহী নন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপি ও থানা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্যমতে, মুন্সী সোহেল ‘একক আধিপত্য’ কায়েমের লক্ষ্যে কাউকেই আমলে নেন না। তার নেতৃত্বাধীন সোহেল গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরে গিয়ে তিনি নিয়মিত হুমকি-ধামকি দিয়ে কাজ আদায় করেন। তার ভয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে তার কথামতো চলতে বাধ্য হন।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত মুন্সী সোহেল ছিলেন একেবারেই নিস্ক্রিয়। অথচ এরপর থেকেই হঠাৎ করে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মাগুরা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও, জেলা কমিটির প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল একা নন—তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিএনপির কিছু অসাধু নেতাকর্মী, যারা তাকে এসব অপকর্মে সহযোগিতা করছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ সোহেলের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পান না।

সম্প্রতি একটি সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সোহেল গ্যাং শিক্ষক ফয়জুর রহমানের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তাকে এক নারীকে পাশে বসিয়ে ভিডিও করে জিম্মি করা হয়। পরে একদিন অপহরণ করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় এবং ১ লক্ষ টাকার চেক নেয়া হয়। পরে চেকটি ফেরত দিলেও, আরও এক লাখ টাকা চাওয়া হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং জেলা বিএনপির বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ফয়জুর রহমান অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা সোহেল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খাঁনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ায়, অভিযোগ করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ফোনে হুমকি দিতে থাকেন। শেষমেশ ভয় পেয়ে তিনি শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, যা পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়।

এই মামলার পরও থেমে থাকেনি সোহেল গ্যাংয়ের দাপট। বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষক এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সী সোহেল বলেন, “আমার কোনো লোক যদি চাঁদা নিয়ে থাকে, আমি তা জানি না। আমি সরাসরি চাঁদা নিয়েছি—এমন কিছু মনে পড়ছে না। সম্ভবত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছি।”

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষক ফয়জুর রহমান বলেন, “মুন্সী সোহেল ও তার সহযোগী আলামিন আগেও আমার কাছে টাকা দাবি করেছিলেন। আমি তখন বলেছিলাম—কিসের টাকা? তারা বলেছিল, আপনি আওয়ামী সমর্থক ছিলেন, বুঝতেছেন না কেন? চাঁদার টাকা! চাঁদা না দিলে এলাকায় থাকতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “পরে একদিন ফোন করে ডেকে নিয়ে আমাকে তাদের অফিসে জিম্মি করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। আমার স্ত্রী বাধ্য হয়ে নগদ এক লক্ষ টাকা দেয়। এরপর থানায় মামলা করেছি এবং এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করছি।”

এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মহল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com