এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নোয়াগাঁও ইউপির পরমেশ্বরদী বাস ট্যান্ড এলাকায় সরকারী জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে স্থানীয় আ’লীগের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মনির। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে উপজেলা প্রশাসনের।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইব্রাহিম মিয়া উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযানটি দায় সারা বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী। দোকানপাটের চারপাশের বেড়া সরালেও উপরের চালা রেখেই উচ্ছেদ অভিযান শেষ করে প্রশাসন। এসময় বারদি ইউপি ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও থানা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী জানায়, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী বাস ট্যান্ড এলাকায় ব্রীজের পাশে বড় আকৃতির রেইনট্রি গাছ কেটে এ দোকান নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসন এ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে ঈদের ছুটিতে এ দোকান নির্মাণ কাজ শেষ করে। আ”লীগ নেতা নোয়াগাঁও ইউপির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মনিরুজ্জামান মনির সরকারি জায়গা দখল করে দোকান পাট নির্মাণ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মনির মেম্বার কোন প্রকার লিজ ছাড়াই সরকারী সম্পত্তি ও নদীর জায়গা দখল কওে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। দোকান ঘর নির্মাণ হলে এ অঞ্চল যানজটের সৃষ্টি হবে। এছাড়াও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে জায়গা দখল ও সরকারী গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই হামলা ও মামলার ভয় দেখান। ঈদের ছুটির সুযোগ পেয়ে তারা এ নির্মাণ কাজ করে।
এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, পরমেশ্বরদী পুরাতন ব্রীজ এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, চেয়ারম্যান, ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দখলে নিয়ে নিচ্ছে। এর আগেও ওই এলাকায় কয়েকটি জায়গা ভূমি কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে দখল করেছেন।
এদিকে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইব্রাহিম মিয়ার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি ওই দোকানপাটের চারপাশের বেড়া খুললেও উপরের চালা উচ্ছেদ করেননি। ফলে যে কোন সময় এ জায়গা দখল করে পুনরায় দোকানপাট নির্মাণ করতে পারবেন। এ উচ্ছেদ অভিযান লোক দেখানো হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসু বলেন, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসন দায় সারা উচ্ছেদ করছেন। কেউ লিজ ছাড়া সরকারী জায়গায় দখল করলে কোন স্থাপনা ভাংচুর করে উচ্ছেদ করে। কিন্তু এখানে উল্টো চিত্র পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণভাবে করা হয়েছে। দখলদারের অনুরোধে তার উপরের চালাটি বিকেলের সরিয়ে নিয়ে যাাবে এমন শর্তে রাখা হয়েছে। তবে সরিয়ে না নিলে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনে জেল জরিমানা করা হবে।












