আনিসুর রহমান ফারুক, ময়মনসিংহ :
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগের পর থেকেই ময়মনসিংহ নগরীতে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং বিএনপি-জামাত ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে টাউনহল মোড়ে গিয়ে শেষ জমায়েত হয়। পরে আনন্দ মিছিল নিয়ে নগরীজুড়ে উল্লাস করে। জাতীয় পতাকা নিয়ে ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আনন্দ মিছিলে অংশ নেয়। এসময় বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায় অনেককেই।
এদিকে বেলা বারোটার দিকে নগরীর নতুনবাজারস্হ বাগান বাড়ী মোড়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ -সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা ও অরাজকতা প্রতিরোধে সকলকে আহ্বান জানান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিজয় মিছিল করে নগর প্রদক্ষিণ করে এতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন বিকেলে ময়মনসিংহে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ বন্ধ করে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্য ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে সমন্বয়করা বলেন বৈষম্যমুক্ত সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকবে বলেও জানান। তারা বলেন, ইতোমধ্যে যেসব জায়গায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, এর সাথে আন্দোলনরত ছাত্রদের কোন সংপৃক্ততা নেই। এরজন্য তারা দু:খ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে সমন্বয়করা ময়মনসিংহে তাদের আন্দোলনে আপামর জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মিডিয়াকর্মী, পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ যারা সংহতি জানিয়ে তাদের সাথে ছিল সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া এই আন্দোলনে ময়মনসিংহসহ সারাদেশে যেসব হত্যকান্ড ঘটেছে এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার দাবি করেছে আগত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে। এদিকে নগরীতে শান্তি ও সম্প্রীতি মিছিল বের করে বিভিন্ন সংগঠন। মঙ্গলবার বিকেলে মিছিলটি নগরীর গাঙ্গিনারপাড় থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।













