নিউজ ডেস্ক
রাজধানীর সেন্ট্রাল হসপিটালে তথ্য প্রতারণা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যু ও মৃত্যুঝুঁকিতে (মা) মাহবুবা রহমান আঁখি। এ বিষয়ে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি ব্যর্থ অভিযোগ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানন নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ)।
নিহাচের সমন্বয়ক ফকর উদ্দিন মানিক বলেন, ডা. সংযুক্তা সাহা দুবাই অথচ (৯ জুন) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হসপিটাল সংযুক্তার অধীনে ভর্তি করে আঁখিকে। এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দেন ডা. সংযুক্তা কাজ করছে অপারেশন থিয়েটার। এমন মিথ্যা তথ্য এবং ভুল চিকিৎসার কারণে শেষ হতে বসেছে পুরো পরিবার। এ দায়ে অবশ্যই ডা. সংযুক্তা সাহার সেবা দেবার ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। এবং সেন্ট্রাল হসপিটালকে জরিমানা ও শাস্তি প্রদান করতে হবে।
নিহাচের সদস্য সচিব এফ এ শাহেদ বলেন, বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায় বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি ব্যর্থ। মাহবুবা রহমান আঁখির মত ঘটনা এখন নিয়মিত। সংবাদে শিরোনাম হবার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি পরিদর্শন দল গঠন করেছে সেন্ট্রাল হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য। এতদিন কেন হয়নি? সারাদেশে ডা. সংযুক্তা সাহার মত কসাই এবং সেন্ট্রাল হাসপাতালের হাজারটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ কি? এমন ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, না পুরো স্বাস্থ্য সেবাকে নিশ্চিত করা?
সেন্ট্রাল হসপিটাল ও ডা. সংযুক্তার অনিয়মের শেষ নেয়। সুতরাং, সেন্ট্রাল হসপিটাল এবং ডা. সংযুক্তা সাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে করে চিকিৎসা সেবা খাতকে যারা ব্যবসায় খাতে পরিনত করেছে তারা যেন একটি মেচেজ পাই। একই সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জনগণের সেবা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। অথবা সমালোচনাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলানীতি বন্ধ করে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে, বলে যুক্ত করেন তিনি।
সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসা নিয়ে মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী বলেন, গত শুক্রবার (৯ জুন) রাত ১টা সেন্ট্রাল হসপিটালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় আঁখিকে। ডা. সংযুক্তা হাসপাতালে উপস্থিত না থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি অপারেশন থিয়েটার কাজ করছেন। তারা আমার স্ত্রীকে ওটিতে ঢুকায় এবং নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করে, তখনও আমি আবারও সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে আছেন কি না জানতে চাই। কর্তৃপক্ষ আবারও বলেন, তিনি আছেন এবং তিনি তার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জানতে পেরেছি ডা. সংযুক্তা সাহা ছিলেন না এবং তারা রোগীর কোনোরকম চেক-আপ ছাড়াই ডেলিভারির কাজ শুরু করে।
ইয়াকুব আলী বলেন, ‘গত শুক্রবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। আজ পর্যন্ত কোনো ইমপ্রুভমেন্ট নেই, ডাক্তার বলেছেন তার ইমপ্রুভমেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম। বর্তমানে ল্যাব-এইডে চিকিৎসারত এবং এখন তার কিডনি, লিভার, হার্ট এবং অন্য কোনো অংশ কাজ করছে না। ডাক্তার বলেছেন এভাবে কতক্ষণ তাকে তারা বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
মাহবুবা রহমান আঁখিকে মুমূর্ষু অবস্থায় বর্তমানে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। সেখানে ইয়াকুব আলীর (আঁখির স্বামী) সাথে নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ) এর সমন্বয়ক ফকর উদ্দিন মানিক এবং সদস্য সচিব এফ এ শাহেদ দেখা করেন।












