চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সারা দেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনটিরও নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠছে। গ্রাম থেকে বাজার, হাট থেকে চায়ের দোকান সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু- কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য। এ আসনে এবার প্রধান লড়াই গড়াচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসনটিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী। এবারো দলটির প্রার্থী হয়েছেন হেভিওয়েট বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া। এলাকায় তার আলাদা ইমেজ আছে। জুলাই বিপ্লবের পর তৃণমূল পর্যায়ে তার তৎপরতা সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে। দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় শক্তিশালী এ নেতা স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও হাল ছাড়ছেন না। এ আসনে দলটির প্রার্থী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কেরামত আলী। তিনিও মাঠে সরব রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি’র শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও রাজনীতিতে জামায়াতের অতীত খুব একটা সুখকর নয়। সংসদ র্নির্বাচনে জয়ের নজির নেই দলটির। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর পাল্টে গেছে সব হিসাব-নিকাশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে দলটি। সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। ফলাফল যাই হোক, ভোটের অঙ্কে নতুন রেকর্ড গড়বে দলটি।
ভোটার এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভোটের সকল সমীকরণ এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়াকে ঘিরে। কেননা এই আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী তিনি। দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা শিবগঞ্জের পরিচিত মুখ। আসনটিতে শাহজাহান মিয়া ৪ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, আসনটি বিএনপি’র ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। জনগণের ভোটে বিএনপি’র জয় হবে ইনশাআল্লাহ্। অন্যদিকে এবার দলটি থেকে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. মোহাম্মদ কেরামত আলী। দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের শক্তিকে সামনে রেখে তিনি মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কৌশলগতভাবে এই আসনটিতে অভিষেক করতে মরিয়া হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা দুঃশাসনমুক্ত দেশ গড়তে চায়।
এ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন নবাব মো. শামসুল হুদা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আব্দুল হালিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নানা পেশাজীবীর মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ভোটের ফল নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর- ভোটার উপস্থিতি, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনের পরিবেশ। বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি যেমন একটি বড় ফ্যাক্টর, তেমনি জামায়াত প্রার্থীর সংগঠিত ভোটব্যাংকও উপেক্ষা করার মতো নয়।












