পিরোজপুর প্রতিনিধি
দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পিরোজপুর-২ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা। ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ- এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-২ আসন। এ আসন বর্তমানে জেলায় অন্যতম আলোচ্য রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম তাদের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শামীম বিন সাঈদীর নাম ঘোষণা করেছে। ফলে কোনো অভ্যন্তরীণ বিভাজন ছাড়াই নির্বিঘ্নে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্র সক্রিয় উপস্থিতি থাকার চেষ্টা করছেন জামায়াতের এই প্রার্থী। অন্যদিকে, বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও স্থানীয় পর্যায়ে চারজন সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ইতিমধ্যে মাঠে সক্রিয়। তারা হলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহমুদ হোসেন, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মো. ফকরুল আলম এবং সাবেক সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক প্রভাব ও তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতার কারণে আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সামাজিক ও ধর্মীয়-কাণ্ডে যুক্ত হয়ে নজর কাড়ছেন ভোটারদের। তার পিতা মো. নুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিএনপি’র সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। দলীয় নেতাদের মতে, সুমনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে হাইকমান্ডের বিশেষ সুনজরে রেখেছে। অন্যদিকে, মাহমুদ হোসেন সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। ফকরুল আলম ও আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রত্যেক প্রার্থীই দলের প্রতি আনুগত্য ও আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন। সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, দল মনোনয়ন দিলে বিএনপি’র ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত বিএনপি’র হারানো এ আসনে বিপুল ভোটে জয় এনে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। মাহমুদ হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে, দল মনোনয়ন দিলে বিজয় নিশ্চিত। ফকরুল আলম ও সৈকতও নিজেদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে নিজ নিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী নির্ধারণের পরেই চূড়ান্ত নির্বাচনী সমীকরণ স্পষ্ট হবে। তবে, আপাতত জামায়াতের শামীম বিন সাঈদী নির্বিঘ্নে মাঠে থাকায় তিনি এককভাবে প্রচারণার সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে, বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও প্রার্থী নির্ধারণে দেরি দু’টিই নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।












