গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের-১৯ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। প্রতীক পাওয়ার পর মাঠে নেমে পড়েছে বিএনপি-জামায়াত। মাঠে জমেছে এ দু’দলের লড়াই। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি এই আসনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক সভা-সমাবেশ, সাংগঠনিক বৈঠক ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠ চাঙ্গা রাখছেন নেতাকর্মীরা। প্রার্থী মো. মোকাররম হোসেন সুজনের পক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা এবং প্রার্থীর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা। আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের জননন্দিত সফল চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন সাধারণ মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ। স্থানীয় ভোটারদের কথায়ও তার প্রতিফলন মিলছে। কোলকোন্দের আঞ্জুমানআরা, নিয়ামত পাণ্ডারদীঘির তরুণ ভোটার ফারুক, মর্নেয়ার হোসেন আলী ও বড়বিলের যাদু মিয়া বলেন, সুজন সহজ-সরল মানুষ। অহঙ্কার নেই, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। এবার ধানের শীষেই ভোট দেবো।
এ ছাড়া বিএনপি জোটের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. হানিফুর রহমান সজীব জোট প্রার্থীর সমর্থনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বিএনপি প্রার্থী হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় থাকায় এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি বেড়েছে। জামায়াত নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকার পতনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা এ আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। নোহালীর আশরাফুল, গঙ্গাচড়ার দুলাল ও গজঘণ্টার সামসুল বলেন, বিগত সরকার জামায়াতকে দমন করতে চেয়েছে। কিন্তু মানুষ সেই জুলুম দেখেছে। এবার ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। জামায়াত জোটের এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে রায়হান সিরাজীর পক্ষে কাজ করছে। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিয়মিত পথসভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে শক্তি বাড়াচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, আদর্শিক ও নৈতিক রাজনীতির বিকল্প হিসেবে তারা মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান। প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু আগে থেকে মাঠে ঘুরে পথসভা ও উঠান বৈঠক করে পরিচিত হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আলী বলেন, মানুষ দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়।
আমরা ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির কথা বলছি। হাতপাখা চমক দেখাবে। উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, রংপুর-১ আসনে বিএনপি’র অবস্থান শক্ত। মানুষ ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের পক্ষে মানুষের সমর্থন বাড়ছে। ইনশাআল্লাহ এ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে। এদিকে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মো. আনাস চেয়ার প্রতীকে ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন কাঁচি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে রংপুর-১ আসন জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এরশাদ সরকারের আমল থেকে ’১৮ সাল পর্যন্ত এখানে জাতীয় পার্টি জয়ী হয়। তবে বিগত আওয়ামী জোটে নাটকের নির্বাচনে দু’বার জাতীয় পার্টির এমপি হলে বিনা ভোটের বদনাম নিতে হয় এবং ২৪’র ডামি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পরাজিত হয়। তবে অতীতের শিক্ষা থেকে জাতীয় পার্টি এবার এককভাবে নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকে সক্রিয় ছিল। রংপুর-১ আসনে প্রার্থী মো. মঞ্জুম আলী আগের নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও সে সময় থেকেই এলাকায় পরিচিতি পান। জাতীয় পার্টি এবার মঞ্জুম আলীকে মনোনয়ন দিলে তার মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করে। আপিলেও নির্বাচন কমিশন প্রথমে বাতিল ও পরে পুনঃ আবেদনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তিনি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী নিয়ে মাঠে লাঙ্গল প্রতীকে প্রচারণা চালান। তার প্রার্থিতার বিষয়টি আদালতে গড়ালে প্রচারণা চলাকালীন সর্বোচ্চ আদালত তার প্রার্থিতা ২৭শে জানুয়ারি বাতিল করলে ত্রিমুখী লড়াই হয়ে উঠে দ্বিমুখী। উল্লেখ্য, এ আসনে ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৩১২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ১৭১ জন আর হিজড়া ২ জন।












