শরীয়তপুর প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলার ৩টি আাসনে মোট ভোটর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার ৭২১ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৫লাখ ৫০ হাজার ৮১৪জনপুরুষ ভোটার ৫লাখ ৮৩ হাজার ১১২ জন। শরীয়তপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৯ জন। শরীয়তপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৪লাখ ১৫ হাজার ১৩৪জন। শরীয়তপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ১৩৮জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৩৯২টি। শরীয়তপুর-১ আসনে ১৩৯টি,শরীয়তপুর-২ আসনে ১৩৬টি শরীয়তপুর-৩ আসনে ১১৭টি। এ ৩টি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরমধ্যে শরীয়তপুর-১ আসনে ৮ জন । শরীয়তপুর-২ আসনে ৯ জন ও শরীয়তপুর-৩ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।এরা হলেন শরীয়তপুর-১ আসনে এরা হলেন খেলাফত মজলিসের জালালুদ্দীন আহম্মেদ রিক্সা গনঅধিকার পরিষদের ফিরোজ আহম্মেদ ট্রাক, জাতীয় নাগরিক পার্টির আবদুর রহমান শাপলাকলি ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ হাগপাখা , বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল সাঈদ আহম্মেদ আসলাম ধানেরশীষ .স্বতন্ত্র সৈয়দ নজরুল ইসলাম মোটর সাইকেল ,স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ঘোড়া ,সুপ্রীম পার্টির নূরমোহাম্মদ একতারা।শরীয়তপুর-২ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন, এরা হলেন জাতীয়পার্টি জসিম উদ্দিন লাঙ্গল ,জামাত ইসলামী বাংলাদেশ মাহমুদ হোসেন দাড়িপাল্লা ,বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মাহমুদুল হাচান বটগাছ ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল সফিকুর রহমান (কিরণ) ধানেরশীষ , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইমরান হোসেন গাতপাখা ,জনতার দলের পারভেজ মোশারফ কলম ,স্বতন্ত্র মোঃ আলমগীর হোসেন,স্বতন্দ্র মোঃ নাসির,গনঅধিকার পরেষদের আখতারুজ্জামান স¤্রাট ট্রাক । শরীয়তপুর-৩ আসনে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন ,এরা হলেন ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল মনোনীত মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ধানেরশীষ,জামাত ইসলামী বাংলাদেশ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম দাড়িপাল্লা,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হানিফ মিয়া হাতপাখা ,জাতীয় পার্টির মোঃ আবদুল হান্নান লাঙ্গল। এ ৩টি আসনেই বিএনপি বিজয় হবে বলে দাবী করেন। এরমধ্যে শরীয়তপুর-৩ আসন ভেদরগঞ্জ-ডামুড্যা ও গোসাইরহাট) এ আসনটি মূলত স্বাধীনতার পরপর মুসলিমলীগের ইব্রাহিম খলিল বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর থেকে এ আসনে আওয়ামীলীগ বিরোধী আসন হিসেবে খ্যাত ছি। কিন্তু সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী আবদুর রজ্জাক বার বার এ আসন থেকে সামান্য ভোটের ব্যবধানের সুকৌশলে বিজীয় হয়েছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ বিরোধী লোকের মনমানসিকতা ঘুরাতে পারেননি। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নরুদ্দিন আহমেদ অপু বনাম জামাত ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আজাহারুল ইলামের মধ্যে । এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জামাত বাদে সকল দলের শ্রেণী পেশার মানুষকে তার পক্ষে একাকার করে ফেলেছেন।এ কারনে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে ভোটারদের ধারনা। শরীয়তপুর-২ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ বনাম জামাত ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ডাঃ মাহমুদ বকাউল এরমধ্যে । এ আসনে জামাত ৩টি আসনের মধ্যে তুলনা মূলক ভাবে একটু ভোটারদের সমর্থন বেশী হলে ও সফিকুর রহমান কিরণ দীর্ঘদিন মাঠে থাকা প্রার্থী । এ ছাড়া এ আসনে তিনি সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্ণেল অব শওকত আলী,আবদুর রাজ্জাকদের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তিনি নির্বাচনী মাঠে ভাল মানের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া অর্থ বিত্ত জনপ্রিয়তা সবই তার রয়েছে। এ এলাকার মানুষ তাকে সোনার কিরণ নামে চিনে ও জানে। এলাকায় উন্নয়ন,স্কুল,কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা সহ অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিজের টাকায় গড়েছেন। তিনি একজন ক্লিন ইমেজের লোক। তাছাড়া দেশের ৫ শীর্ষ ধনী ব্যক্তি প্রার্থীদের মধ্যে তিনি তৃতীয় বলে শোনা যায়। এছাড়া জামাতের আমীর ঈদানিং কালে বেশ কিছু কথা জনবিরোধী কথা ভাইরাল হওয়ায় জামাতের ভোট কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। এ আসনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। শরীয়তপুর-১ আসনে ত্রিমূখী লড়াই চলছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। অপরদিকে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব রিক্সা মার্কার প্রার্থী মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ,আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটর সাইকেল মার্কার সৈয়দ নজরুল ইসলাম (লেঃ কর্ণেল রাসেল)এর নাম শোনা যায়। একদিকে বিএনপি বড় দল। অন্যদিকে ১১দলীয় জোট এবং জাজিরা আওয়ামী এলাকা খ্যাত হওয়ায় আওয়ামীলীগের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী লেঃ কর্ণেল রাসেল । কেউ কারো চেয়ে কম নয়। তবে বিএনপির প্রার্থী স্থানীয় নয়। তার বাড়ি শরীয়তপুর-৩ আসনে ডামুড্যায়। প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা তাকে বহিরাগত হিসেবে বিভিন্ন জনসভায় প্রচার করে থাকে।এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে একজোট হয়ে তাকে নিয়ে কাজ করছেন না। এটা বড় ধরনের একটা দুর্বলতা। তবে জাজিরায় আওয়মীলীগের সমর্থন বেশী হলে ও পালংয়ে বিএনপি ভোটার সিংহ ভাগ। এ কারনে মনে হচ্ছে ত্রিমূখী লড়াই হবে। যিনি বিজয়ী হবেন খুব কম ভোটের ব্যবধানে।শরীয়তপুর-২,শরীয়তপুর-৩ আসনে যেভাবে নির্বাচনী হাওয়া জমে উঠেছে শরীয়তপুর-১আসনে সেভাবে বিএনপি প্রার্থী জমাতে পারেনি। তবে বিএনপি জামাত ও ১১দলীয় জোট প্রার্থী সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রাত দিন ঘুম হারাম করে খেয়ে না খেয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিএনপি যেমন চায় তিনটি আসন তাদেও দখলে নিতে । তেমনি জামাত ও ১১দলীয় জোট চায় পরিবর্তন আনতে তথা তাদেও দখলে নিতে। তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগের ভোট দিয়ে বৈতরনী পার হতে চায়। প্রশাসনের পক্ষথেকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহনের সকল প্রস্ততি প্রায় সম্পন্ন।












