ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা দিয়ে গঠিত চলনবিল অধ্যুষিত সংসদীয় আসন পাবনা-৩। এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে উত্তাপ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উৎসবমুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। দীর্ঘ সময় পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও অতীত ভোটের হিসেবে এই আসনটি বিএনপি’র একচ্ছত্র আধিপত্যপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটার ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনটি মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পাবনা জেলা জামায়াতের সহকারী তরবিয়াত সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আলী আছগার এবং ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরজমিন ভোটার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদক। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজেদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে প্রত্যাশা রাখছেন। ভোটাররা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মন্তব্য করছেন না। তবে তাদের মতে, রাজনৈতিকভাবে ফরিদপুরে এগিয়ে থাকতে পারে ধানের শীষের প্রার্থী ও স্থানীয় প্রার্থী হওয়ায় ভাঙ্গুড়ায় এগিয়ে থাকতে পারে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। চাটমোহরে এগিয়ে থাকতে পারেন ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই ধারণা সত্য হলে, ভোটের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে চাটমোহর উপজেলা। তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এখানেই। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে চাটমোহর উপজেলায় এককভাবে ভোটার সংখ্যা অন্য দুই উপজেলার সম্মিলিত সংখ্যার কাছাকাছি। দীর্ঘদিন চাটমোহর থেকে সংসদ সদস্য না থাকায় এখানকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে চাটমোহরে ২ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ জন, ভাঙ্গুড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮ জন এবং ফরিদপুরে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১৯ জন ভোটার রয়েছেন। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হচ্ছে। সবমিলিয়ে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির ভোটে পাবনা-৩ আসনে কাদের দিকে ঝুঁঁকছে ভোটারদের রায়- সেটি দেখার অপেক্ষা।












