• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ভারতীয় পণ্য বর্জনের সমর্থনে লন্ডনে ইন্ডিয়া হাউজ অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪ ৬:৪৮
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪ ৬:৪৮

25597F5C F26A 4FF4 99E4 E7B00F488A87

ভারতীয় পণ্য বর্জনের সমর্থনে লন্ডনে ইন্ডিয়া হাউজ অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

ইয়াসমিন আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি
জনতার আওয়াজ,লন্ডন

২২ শে এপ্রিল ২০২৪ জিবিএএইচআর মানবাধিকার সংস্হার আয়োজনে ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সোমবার লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশন (ইন্ডিয়া হাউজ) অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। গ্লোবাল বাংলাদেশীজ এলায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (জিবিএএইচআর) লন্ডনে কমিউনিটি ভিত্তিক ২১ টি মানবাধিকার সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম এই সমাবেশ আহ্বান করে। 

বিক্ষোভ চলাকালে নরেন্দ্র মোদী ও আদানির মুখোশ সম্বলিত প্রতিকৃতিতে জুতার মালা পরিয়ে বিক্ষোভকারীরা তাদের তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন।

সোমবার বেলা ১২টা থেকেই সেন্ট্রাল লন্ডনের টেম্পল এলাকায় ইনডিয়ান হাউজের সামনে পুরো অল্ডউইচ এলাকা জুড়ে বাংলাদেশীদের জমায়েত শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীদের বিক্ষোভে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবীতে সমাবেশকারীরা ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শংকর বরাবরে হাইকমিশনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রেরন করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন জিবিএএইচআর আহবায়ক ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন।
বিক্ষোভে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ব ও ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ড. পিনাকী ভট্টাচার্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর।

ড. শহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভারত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে যে সাহায্য করেছে তাতে আজকের ভারত হটাও আন্দোলন অভাবনীয়। কিন্তু ভারত তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে যে ব্যবহার করে আসছে তাতে ধারনা পরিষ্কার হয়ে যায়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে যে ভাবে ভারত সাহায্য করে আসছে দিনের পরে দিন, তাতে কোন দেশের জনগনের পক্ষেই ভারতকে সম্মানের জায়গায় বসিয়ে রাখা সম্ভব নয় । 

অবৈধ সরকারকে সাহায্য করার জন্য ভারত আমদের দেশের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন অবৈধ চুক্তির বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। নিচ্ছে বিনা পয়সায় টান্জিট চুক্তি। লক্ষ লক্ষ অবৈধ ভারতীয় কাজ করছে বাংলাদেশে। বিনিময়ে দিচ্ছে সীমান্তে বাংলাদেশীদের লাশ। এমনকি এই স্বাধীনতা দিবসেও ভারত আমাদের দিয়েছে ২ জনের লাশ । হাসিনাকে এসব করে ভারত আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে আমরা বাংলাদেশিরা ভারতের দাস।

আমাদের দেশের অবৈধ মন্ত্রীরা বলছে ভারতের সাথে আমাদের স্বামী , স্ত্রী সম্পর্ক। সেটা যে গৃহ নির্যাতন সেটা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝে গিয়েছি ।এটা পরিস্কার যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারনে সবচেয়ে বেশি লাভবান ভারত তা বাংলাদেশিরা বুঝে গিয়েছে। ভারতীয় “র” যেভাবে বাংলাদেশকে চালাচ্ছে তা আজ বাংলাদেশিরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। 

মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ব পিনাকী ভট্টাচার্য।  ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের এই কর্মসুচি ধারাবাহিক থাকবে এবং ভারত যদি আমাদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় তাহলে অতি সত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিরপেক্ষতার উদাহরন দেখাতে হবে। না হয় আমাদের আন্দোলন শুধু ভারতীয় পণ্য বর্জন নয়, বাংলাদেশ থেকে সকল ভারতীয় স্বার্থ  উচ্ছেদ করা হবে।

নুরুল হক নূর বলেন, বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষ তার রক্তাক্ত সীমান্ত ও অধিকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়ার জন্য প্রস্তুত। ভারতকে দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পণ্য বর্জন নয়, ভারতের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে ইন্ডিয়া আউট কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে শামসুল আলম লিটন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করা হচ্ছে। এর দায় সম্পূর্ণ ভাবে নরেন্দ্র মোদী আর বাংলাদেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহন করতে হবে। দিল্লি যদি একটি ফ্যাসিবাদী দলের জন্য বাংলাদেশের জনগণের বিপক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখে, তাহলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আগামী ১শ’ বছর তার জবাব দিতে থাকবে। বন্ধুত্বের জবাব বন্ধুত্ব। শত্রুতার জবাবে বন্ধুত্ব হয়না। এই সত্য দেরী হবার আগেই দিল্লী উপলব্ধি করবে বলে আমরা আশাবাদী হতে চাই। অন্যথায় ভারতীয় পণ্যের পাশাপাশি চিরদিনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশ পাকিস্তানকে গুডবাই দিয়েছিলো। দিল্লিকেও অচিরেই গুডবাই দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সন্চালক লেখক রাকেশ রহমান বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আর যাই হোক ভারতীয় অগ্রাসন আর মেনে নিতে পারছি না। আমরা শুধু ভারতীয় পন্য বর্জন নয়, পাশাপাশি প্রকৃত স্বাধীকারের দাবিতে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিরোধ সঙগ্রামের জন্য জনগণের নীরবে ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে।  

লেখক ও কালামিষ্ট রাকেশ রহমান ও সিনিয়র ফেলো রুপম রাজ্জাকের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সিনিয়র ফেলো ও সিনিয়র ড্যাটা ইন্জিনিয়ার রুপম রাজ্জাক, ব্যারিষ্টার জাকির হাসান, টিভি সাংবাদিক শেখ মুহিতুল রহমান বাবলু, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই এর মুসলিম খান, ফাইট ফর রাইট ইন্টারন্যাশনালের বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, মহিলা নেত্রী অন্জনা আলম , তাসলিমা তাজ, জাহানারা আক্তার শিমলা, মানবাধিকার সঙগঠন ইআরআই’র সম্পাদক নওশিন মুস্তারি মিয়া, এ্যাডভোকেট সুফিয়া পারভীন, সাংবাদিক মিনহাজুল আলম মামুন, তোবারক হোসেন, মিশুক হোসেন ও হাসনাত আরিয়ান খান প্রমূখ।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com