• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নাদেলকে বক্তৃতা দিতে না দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন জাকির

প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুন, ২০২২ ৬:৫১
আপডেট: রবিবার, ৫ জুন, ২০২২ ৬:৫১

8DB31D2C C1D1 4FCC 9956 29D7A0610DB7

নাদেলকে বক্তৃতা দিতে না দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন জাকির

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। সিলেট আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ। বাড়ি সিলেটে, রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ডও এখানেই। ময়মনসিংহের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার নাড়ির সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হুমকির ঘটনায় শনিবার সিলেটে দিনভর কর্মসূচি পালন করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় সিলেটে অবস্থান করছিলেন নাদেল। জেলার কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে না পারলেও বেলা ২টায় মহানগরের কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি শুরুর আগেই তিনি চলে যান রেজিস্ট্রারি মাঠে।

সেখানে জমায়েত হচ্ছিলেন মহানগর নেতারা। নাদেল অংশ নেয়ায় মহানগরের কর্মসূচিতে কর্মীদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। বিশেষ করে সিলেটের নাদেল বলয়ের নেতারা সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে যোগ দেন। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর নাদেল মিছিলের অগ্রভাবে ছিলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের ওই মিছিলে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও স্ব স্ব ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছার পর ওখানে সমাবেশ করেন নেতারা। এ সময় স্টেজে সম্মুখ সারিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এ ছাড়া মহানগর সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ছাড়াও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রথমে বক্তব্য রাখেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বক্তব্য শেষ করে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানান সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদকে। তবে তার আগে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়ায় ধন্যবাদ জানান মহানগর সাধারণ সম্পাদক। বক্তব্যকালে সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদও নাদেলকে ধন্যবাদ জানান। তবে বক্তব্য না দেয়ায় সামনে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ‘নাদেল ভাই, নাদেল ভাই’ স্লোগান তুলে প্রতিক্রিয়া জানান। এদিকে মহানগরের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে নাদেলকে নিয়ে বাইরে চলে যান। উপস্থিত থাকা সিলেট মহানগর যুবলীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন- সমাবেশে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে বক্তব্যের সুযোগ দেয়া ছিল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। এর আগে ময়মনসিংহ বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালে সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেট আওয়ামী লীগের যেসব কর্মসূচিতে উপস্থিত হতেন; সেখানেও তাকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দেয়া হতো। কখনো মিসবাহ সিরাজকে সিলেট আওয়ামী লীগ থেকে অসম্মান করা হয়নি। কিন্তু শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বেলায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিষয়টি সবার কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে। বেমানানও মনে হয়েছে অনেকেরই কাছে। তবে নাদেল এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তিনি স্বাভাবিকভাবে মঞ্চে উপস্থিত থেকে সভাপতির বক্তব্য শোনেন। এবং কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায় চলে যান। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর নাদেলকে বক্তৃতার সুযোগ না দেয়ার ঘটনাটি নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টিকে সহজভাবে নেননি সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা। এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত হয়েছে বলে জানান অনেকেই। বিকাল থেকে এ নিয়ে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নাদেল অনুসারী কিংবা তার বলয়ের বাইরের নেতারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকার ইঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেখান। অনেকেই এ নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করান মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনকে। কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট আওয়ামী লীগের বিগত সম্মেলনে নাদেল মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। ফলে অধ্যাপক জাকির হোসেনের সঙ্গে ওই সময় থেকে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। আবার গত বছর ছাত্রলীগ নিয়ে যখন সিলেট আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে ছিল তখন নাদেলই কাছে টানতে চেয়েছিলেন জাকিরকে। এসব বিষয় নিয়ে নাদেলের সঙ্গে জাকিরের নানা টানাপড়েন চলছে বলে জানান নেতারা। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সৌরভ তার ফেসবুক আইডিতে সমাবেশের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে লিখেন, ‘সময় এখন বর্ষাকাল, হরিণ চাটে বাঘের গাল।’ তার ওই পোস্টে মন্তব্যকালে অনেকেই শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে নিয়ে ঘটনাটির ইঙ্গিত করেন। আবার সায়মন ইসলাম নামের আরেকজন তার ফেসবুক ওয়ালে সমাবেশে উপস্থিত থাকা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘রিমেম্বার দ্যা নেইম ইজ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ভাই।’ ডি ডি জাহাঙ্গীর নামের আরেক জন ছবি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘আরে তুমি নিজেই মেইন একাদশে নাই, অতিরিক্ত লিস্টে থেকে লাফালাফি করে লাভ নাই, নাদেল ভাই জাতীয় টিমের পরিচালক মনে রাখবেন।’ জুমাদিন আহমদ নামের আরেক নেতা লেখেন, ‘মনে রেখো তোমাদের সবার দৌড় যেখানে শেষ, শফিউল আলম নাদেলর হাঁটা সেখান থেকে শুরু।’ এমডি হামিদুজ্জামান নয়ন নামের আরেক জন লেখেন- ‘যাদের কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা নাই, তারা মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখে।’ এদিকে- এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সভার সভাপতি সবকিছু জানেন। আর এসব বিষয় নিয়ে এখন চিন্তা নেই। নাদেল তো এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। যারা বলছেন; এটা তাদের বিষয়।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫( লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com