যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি (সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান) ড্যানিয়েল ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তাঁর টানাপোড়েন চলছিল।
ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেনি।
কেলি আরও বলেন, ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোর সময় ড্রিসকল অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আর যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনাসহ নানা বিষয়ে তিনি সহায়তা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ড্রিসকলকে হুমকি হিসেবে দেখতেন পিট হেগসেথ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ড্রিসকলকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাঁকে পদচ্যুত করাটা হেগসেথের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা রয়েছে—এমন একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র হোয়াইট হাউস গ্রহণ করেছে কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হেগসেথের নেতৃত্বাধীন পেন্টাগন থেকে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরে গেছেন। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ড্রিসকল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সহপাঠী ছিলেন।
এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন। এরপর জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহু হঠাৎ পদত্যাগ করেন। হেগসেথ আরও কয়েকজন জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নৌপ্রধানও রয়েছেন।
সামরিক বাহিনীর বাইরেও ড্রিসকল আলোচিত ছিলেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে মস্কো আর কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় তাঁকে যুক্ত করেছিলেন ট্রাম্প। সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের কূটনৈতিক দায়িত্ব পাওয়া বিরল ঘটনা। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
পেন্টাগন গত এপ্রিলে ঘোষণা দেয়, নেভি সেক্রেটারি জন ফেলান পদ ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো শাখার প্রধান হিসেবে তিনিই প্রথম দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি রয়টার্সকে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর ও প্রস্তুতি’ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। অভিযোগ করেছিলেন, একের পর এক জেনারেলকে বরখাস্ত করে হেগসেথ এসব উদ্যোগে বাধা দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ড্রিসকলকে হুমকি হিসেবে দেখতেন পিট হেগসেথ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ড্রিসকলকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাঁকে পদচ্যুত করাটা হেগসেথের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ড্রিসকল হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর হেগসেথের প্রতি তাঁর অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
সামরিক বাহিনীর বাইরেও ড্রিসকল আলোচিত ছিলেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে মস্কো আর কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় তাঁকে যুক্ত করেছিলেন ট্রাম্প। সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের কূটনৈতিক দায়িত্ব পাওয়া বিরল ঘটনা। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
আ/আ












