শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের শরিক নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। জনগণের রায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের ছলচাতুরি মেনে নেওয়া হবে না। গণভোটের রায় কার্যকর না করলে সংবিধান সংস্কারের আন্দোলন, সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচির সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমরা গণভোটে জনগণের কাছে “হ্যাঁ” ভোট চেয়েছিলাম। আমাদের সম্মিলিত আহ্বানে জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। আপনারা সংস্কারের ক্ষেত্রে ঘাটতি করতে পারেন, কিন্তু আমরা ঘাটতি মেনে নিতে পারব না। আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন না।
তিনি বলেন, আজ আন্দোলনের তৃতীয় ধাপের সূচনা হলো। এই গণসমুদ্র থেকে পরিষ্কার ঘোষণা দিতে চাই, গণভোটের আগে যদি সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আমাদের সংবিধান সংস্কারের আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
১১ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, আমরা কোনো হাসি-তামাশা করতে দেবো না। আমাদের আন্দোলনকে ললিপপ দেখিয়ে ভুলিয়ে রাখা যাবে না। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শুধু সংবিধান সংস্কার কমিটিতে আসার কথা বলে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, মনে রাখবেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব গ্রহণ না করলে একদিন আপনাদের চলে যেতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, আমাদের আন্দোলনের মূল কথা সরকার পতনের আন্দোলন নয়। আমরা সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করছি না সরকারকে জাগানোর জন্য, সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি পরিষ্কার গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।
শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাসিনা জনগণকে উন্নয়নের নানা গল্প শুনিয়েছেন। কিন্তু দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে এবং দেশকে ঋণের বোঝায় পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কখনো বিনা ভোটের সরকার, কখনো রাতের ভোটের সরকার, আবার কখনো নানা কৌশলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন, এভাবে দিন পার হয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যখন জেগে উঠেছে, তখন এমন ধাক্কা দিয়েছে যে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।












