শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। একই সাথে শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের উদ্যোগে ‘কাজের ভবিষ্যৎ: সকলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন।
বৈশ্বিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে শিল্পকারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের সব ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় সরকার সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
একই সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে যেন কলকারখানা বন্ধ না হয়, সেজন্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও স্থিতিশীল শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আগামী দিনের সকল প্রতিকূলতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কলকারখানা বন্ধ না রেখে কীভাবে সচল রাখা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’ এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের সরকার পরিচালনার মূল স্পিরিট। শ্রমিক ও মালিক যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সব অংশীজনকে এক ছাতার নিচে আনা যাবে, তখনই বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা গতি পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, এমন এক ওয়ার্কিং ইকোসিস্টেম আমরা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কর্মক্ষেত্র হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই-দেশের ভেতরেও যেমন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ঠিক তেমনি।
তরুণদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা চালু রয়েছে। অতীত শ্রম আইনের জটিলতা দূর করে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দায়বদ্ধতা, সুশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য সাম্য, ন্যায্যতা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক সুবিচার এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, দেশের শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি পথযাত্রায় বারবার বলেছেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শ্রমিক, মালিক এবং দেশের সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবেন।











