সিলেট ব্যুরো
ছবি : সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন এ খবরেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শুরু হয়। তবে পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের বিছানায় ছারপোকা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই ওসমানী হাসপাতালে শুরু হয় ব্যাপক ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু দেওয়া, মেঝে পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালেও চলে এ পরিচ্ছন্নতার কাজ।
তবে একরাতের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছারপোকা তাড়াতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে শিশু ওয়ার্ডে মন্ত্রী পরিদর্শনে গেলে রোগীদের বিছানায় ছারপোকা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নের মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এই হাসপাতালেও চিকিৎসকদের সময়মতো আসা-যাওয়া ও সঠিক ডিউটি নিশ্চিত করা হবে। ড্রেনেজ বা পরিচ্ছন্নতায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে নির্মাণাধীন ও অনুমোদিত অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করে শিগগিরই চালুর ঘোষণা দেন তিনি।’
স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স সেবা দিয়ে থাকেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। বিগত সময়ের অনিয়ম দূর করে জনগণের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
টিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শেষের দিকেই দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম। ইতোমধ্যে সরকারের ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পার্বত্য রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা ব্যতীত দেশের বাকি সব জেলায় ইতোমধ্যেই প্রথম ধাপের হামের টিকা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থাকা শিশুদের জন্য বিশেষ ‘মপ-আপ’ ও জোরদার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। অসচেতনতা ও তথ্যের অভাবে অনেক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। পূর্ববর্তী ক্যাম্পেইনে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিপুলসংখ্যক শিশুকে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা দেওয়া হলেও কিছু শিশু বাদ পড়ে যায়। তাদের মধ্যেই হামের ঝুঁকি দেখা দেয়।’
গত ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকেই বাদ পড়া শিশুদের জন্য ‘মপ-আপ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটসহ হাওর ও দুর্গম এলাকাগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও হাজার হাজার নতুন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিক থেকে পুনরুদ্যমে এই বিশেষ টিকাদান অভিযান পরিচালিত হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং সেবার মান বৃদ্ধি ও রোগীদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক অগ্রগতি ও সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি আমি দেশের প্রায় ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। আমার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, গত ছয় মাসে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে এবং চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত দেখতে পেয়েছি।’
সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিভ্রান্ত করে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালালচক্রের বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা গুরুতর অপরাধ। এই চক্র নির্মূলে র্যাব, ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জমে থাকা প্রশাসনিক জট বা অনিয়ম রাতারাতি কিংবা ছয় মাসে পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।’
পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।











