আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, লেবার পার্টির ভেতরের সূত্রের বরাতে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই স্টারমার পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে দলের ভেতরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রেক্ষিতে জানা গেছে, তার সঙ্গে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি রোববার পদত্যাগ করেছেন।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির অনেক এমপি এখনও বিস্মিত যে স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন, কারণ ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তার দায়িত্বে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা গোপনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যাতে স্টারমারকে পদত্যাগে রাজি করা যায়। এমনকি কেউ কেউ নিজেদের পদত্যাগের হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদায় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার কথাও ভাবছেন। এক মন্ত্রীর উপদেষ্টা জানিয়েছেন, স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা আগামী সপ্তাহে ‘৫০-৫০’।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের পরিস্থিতি এলে স্টারমার তার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে আবার সরকারে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন। রেইনার গত সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি না দেওয়ার অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকেও আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্টারমারের পদত্যাগ হলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে রেইনার এবং মিলিব্যান্ডকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তরসূরির তালিকায় রয়েছেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং উপমন্ত্রী অ্যালিস্টার কার্নস।
স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ মানেই নতুন সাধারণ নির্বাচন হবে, এমন নয়। লেবার পার্টি আভ্যন্তরীণ ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারে, যিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ২০২২ সালে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিও এক বছরের মধ্যে দুইবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করেছিল—বরিস জনসন এবং লিজ ট্রাস।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, স্টারমার তার সহকর্মী দলীয় সদস্যদের পদত্যাগ না করার জন্য রাজি করার চেষ্টা করবেন। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি হাউস অব কমন্সে এ বিষয়ে ভাষণ দেবেন। এছাড়া আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি লেবার পার্টির নারী এমপিদের সঙ্গে তার আলাদাভাবে বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, স্টারমার সোমবার জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণও দিতে পারেন, যেখানে তিনি ম্যান্ডেলসনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়টি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলবেন।
সূত্র: তাস












