আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের একটি নৌঘাঁটি ও সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
Advertisement
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষগুলো আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটররা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে নৈতিক দায়িত্ব, বর্তমান প্রশাসন তা অবজ্ঞা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্যÑযেখানে তিনি যুদ্ধের জন্য কোনো ‹শর্ত’ বা ‹নিয়ম› না থাকার কথা বলেছিলেনÑবেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এদিকে জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে বলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন কেনেডি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘ভয়াবহ ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে লন্ডনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী রোববার আয়োজিত হতে যাওয়া বার্ষিক ‹আল কুদস› দিবস উপলক্ষ্যে পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিল নিষিদ্ধ করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। পুলিশের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে ২০১২ সালের পর এই প্রথম এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল ব্রিটেন সরকার।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এই মিছিলটি আয়োজন করছে ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ যা সরাসরি ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই মিছিলে হিজবুল্লাহর পতাকা ওড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে, যা ব্রিটেনে নিষিদ্ধ। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই মিছিল ঘিরে লন্ডনে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং একাধিক পাল্টা-প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি ছিল। উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানি শাসনগোষ্ঠীর পক্ষ-বিপক্ষ মতাদর্শের জেরে এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি থমথমে। অন্যদিকে, আয়োজক সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভয়ভীতিহীন পুলিশিংয়ের নীতি লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মিছিল নিষিদ্ধ হলেও তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো ধরণের অস্থিরতা তৈরি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র : সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস।












