জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কিশোরী ও যুব নারীদের নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে টেকসই ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘দুর্বার কন্যা’ প্রোগ্রাম মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে।
বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩–২০৫০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা এই মডেলটি কিশোরী ও যুব নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে দক্ষ করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোরীরা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শিকার নয়; তারা সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং নেতৃত্বদাতা। দুর্বার কন্যা মডেল ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।’
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী একটি সফল উদাহরণ। তবে ভবিষ্যতের সক্ষমতা ধরে রাখতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে যুব নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কিশোরীদের কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘কেবল অবকাঠামো দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সচেতন, দক্ষ ও ক্ষমতায়িত মানুষ, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ ই. হকন আরাল্ড গুলব্রানসেন বলেন, যুব নারীদের নেতৃত্বে সুযোগ তৈরি করা হলে তা আরও শক্তিশালী ও টেকসই কমিউনিটি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
‘দুর্বার কন্যা’ মডেলটি জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নেতৃত্ব বিকাশ, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল দক্ষতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। এটি স্থানীয় সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে যুব নারীদের সংযুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার যুব নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন জ্যানিস হুসাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীরা।












