প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প প্রহণ করা দরকার।’
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের হোটেল লোটে প্যালেসে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ বিষয়ে একটি হাই-লেভেল সাইট ইভেন্টে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সংস্থা হিসাবে আসিয়ান ও পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের সাথে তাদের ঐতিহাসিক গভীর সম্পর্ক ও লিভারেজ নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সার্বিক সম্পৃক্ততায় প্রধান ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিকত্বের পথ সুগম করাসহ রাখাইন রাজ্য বিষয়ক কফি আনান উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশসমূহ সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়নে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বেসামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের অর্থবহ উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের আস্থা বাড়াবে ’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও আসিয়ানের বর্তমান ফোকাস মিয়ানমারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং মিয়ানমারের জনগণের জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ তাদের (জাতিসংঘ) শক্তিশালী ভূমিকার জন্য অপেক্ষা করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব এখন বিশ্বজুড়ে উদ্ভূত নতুন নতুন সংঘাত প্রত্যক্ষ করছে এবং দুর্ভাগ্যবশত রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ও এর ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা মেটানো দুটো থেকেই বিশ্বের মনোযোগ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত আগস্ট পর্যন্ত জেপিআর-২০২২ এর অধীনে আপিলকৃত ৮৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাত্র ৪৮ শতাংশ অর্থায়ন করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিরূপ প্রভাব আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। কারণ এটি তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার সম্ভাবনার পথে আরও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে। ১৯৬০ সালের পর থেকে মিয়ানমারের সরকারগুলো কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচার নির্যাতন-নিপীড়ন তাদের দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধ্য করেছিল। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) মোট সংখ্যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন।’
প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান আমাদের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য বিরাট ঝুঁকি তৈরি করেছে। ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের প্রতি বছর প্রায় ১.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার ৫০০ একর জমির বনভূমির ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং স্থানীয় নাগরিকদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সংকট সমাধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি মিয়ানমারের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছে।
বাংলাদেশ মনে করে যে, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা নির্মাণের পদক্ষেপ খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাসস












