• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

শিক্ষকদের আন্দোলন: ভোগান্তিতে জনগণ

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩ ২:২০
আপডেট: বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩ ২:২০

96632

শিক্ষকদের আন্দোলন: ভোগান্তিতে জনগণ

নিউজ ডেস্ক

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গত নয়দিন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষকরা। এই আন্দোলন চলা অবস্থায় গত ১৮ জুলাই করোনার শিখনঘাটতি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কিন্তু মাউশির ওই কড়া নির্দেশনার পরও মাঠ ছাড়েননি শিক্ষকরা।

অন্যদিকে তাদের এই আন্দোলনের ফলে তোপখানা সড়কের পল্টন-কদম ফোয়ারা এবং কদম ফোয়ারা-পল্টন মোড় অংশে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে এই পথে চলাচল করা যানবাহনগুলোকে আব্দুল গণি সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। আর ভোগান্তিতে পড়েছে ওই পথের যাত্রীরা।

বাস যাত্রী জোবায়ের হাসান জয় বলেন, প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তা বন্ধ থাকায় মৎস্যভবন পর্যন্ত রাস্তা জ্যাম হয়ে গেছে। শুনলাম এই বাস সচিবালয়ে সামনে দিয়ে ঘুরে জিরো পয়েন্ট মোড়ে যাবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে আবার অফিসে আসতে হবে আমাকে। শহরে এরকম আন্দোলন সমাবেশ সত্যিই ভোগান্তির।

বুধবার (১৯ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায়, প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে বসে আন্দোলনের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। অন্যদিকে কদম ফোয়ারা থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত শিক্ষকরা অবস্থান করে হাততালি ও স্লোগান দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ডাকে গত ১১ জুলাই থেকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষকরা। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও বুধবার সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন তারা। দাবি আদায়ের জন্য মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মীরা। এছাড়াও আন্দোলনরত শিক্ষকদের স্লোগানে উত্তপ্ত পুরো প্রেসক্লাব এলাকা।

শিক্ষকদের এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রবিবার ও সোমবার সারা দেশে ক্লাস বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। গত সোমবার লাগাতার অবস্থানের একপর্যায়ে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মাউশির মাধ্যমিক ও কলেজ শাখা পরিচালক, একজন উপপরিচালক ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য।

টানা আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে শিক্ষক প্রতিনিধিদের দাবির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা এবং আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেন মাউশি মহাপরিচালক। এ সময় তিনি চলমান আন্দোলন স্থগিতের জন্য শিক্ষক নেতাদের অনুরোধ করেন। তবে বৈঠক থেকে বের হয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নেতারা।

অন্যদিকে করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি রোধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মাউশি পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল কবির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ বলা হয়, দৈনন্দিন শিখন-শেখানো ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিক্ষকদের ও তা পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়মিত উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডিরও কোনোরূপ নজরদারি না থাকায় নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়নি। ফলে এখন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়াসহ গভীর নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এ কার্যক্রমসহ শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ক্ষুন্ন করছে।

অফিস আদেশে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। এগুলো হলো— প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি সক্রিয় তদারকি, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান কার্যকর ভূমিকা, কোভিড-১৯ অভিমারির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কোনরূপ মিথ্যা ও উষ্কানীমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিরবছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

এ প্রসঙ্গে বিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, আমাদের দাবি সুস্পষ্ট আমরা দাবি আদায় না হলে মাঠ ছাড়ব না। দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা চলমান অবস্থায় গতকাল মাউশি যে চিঠি দিয়েছে তা শিক্ষকদের আরো উত্তেজিত করেছে। যে শিক্ষকরা স্কুলে তালা দিয়ে ঢাকায় এসেছে তাদের চিঠি দিয়ে ক্লাসে ফেরানো সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দাবি নিয়ে আজ শিক্ষামন্ত্রী সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। তবে কখন, কোথায় বসা হবে তা এখনো জানানো হয়নি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com