মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বড় জঙ্গি আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান লয়েড ডগেট তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে বাইডেন প্রশাসনকে যে দাবি জানিয়েছেন তাতে অবগত রয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কংগ্রেসম্যান লয়েড ডগেটের দাবি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ মন্তব্য করেন প্রধান উপ মুখপাত্র ভেদান্ত প্যাটেল। তিনি জানান, কংগ্রেসের কোনো সদস্য দাবি উত্থাপন করলে অবশ্যই তাতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দৃঢ় সমর্থন থাকে।
ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, “বাংলাদেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস এবং সিনেটের অনেক সদস্য। কংগ্রেসম্যান লয়েড ডগেট বলেছেন, “বাংলাদেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের সহিংসভাবে দমন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। হাসিনাই হচ্ছে বড় জঙ্গি। তার নির্দেশেই জাতিসংঘের লোগাে সম্বলিত গাড়ি ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং খুন করা হয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের উচিত শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।” এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?”
জবাবে প্যাটেল বলেন, “যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চায় তাদের সব ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে আমাদের অবশ্যই সমর্থন রয়েছে। আপনার প্রশ্নটি যেহেতু কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেহেতু সুনির্দিষ্টভাবে তুলনা করে এটার জবাব দিচ্ছিনা। তবে আমাদের কংগ্রেসের কোনো সহকর্মী যদি অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে দাবি জানান তাহলে সেটার জবাবে তার পক্ষে অবশ্যই আমাদের সাড়া থাকবে।”
অপর এক প্রশ্নে আনসারী জানতে চান, “বাংলাদেশে যেভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে, গুলি করছে, তাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশ হেফাজতে আন্দোলনের নেতাদের নির্যাতন করে বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হয়েছে, আর এগুলো থেকেই নির্যাতনের বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- এই প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলবাহিনীর ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?”
জবাবে প্যাটেল বলেন, জনসম্মুখে এবং ব্যক্তিগত- উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের চলমান সংকটের ক্ষেত্রে স্থায়ী এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমাদের আহ্বান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তার দৃঢ় সমর্থন পুর্নব্যক্ত করছে।
প্যাটেল বলেন, “বাংলাদেশে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে আমরা আহ্বান জানাবো জনগণকে যেনো পুরোপুরি এবং বাধা বিঘ্নহীনভাবে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাসহ বাংলাদেশের নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ পাবে।”













