র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশিদ হাসান বলেছেন, প্রতিষ্ঠাতার শুরু থেকেই র্যাব মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। সেই বিভিন্ন কৌশল চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
র্যাব ডিজি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। সেই নিদের্শনা মেনে র্যাবসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স থেকে আমরা একবিন্দুও পিছু হটবো না। সোনারগাঁও চেকপোস্টে দুই মালবাহী কন্টেইনাইর থেকে ৩৭ হাজার বোতল বিদেশি মদসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩৭ কোটি টাকা। এছাড়া ওয়ারী ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্যতম মূলহোতাকে দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৬ অক্টোবর) বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এসব মাদক ধ্বংস করা হচ্ছে।
এদিন সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারহানা ফেরদৌস, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (প্রসিকিউশন) উপস্থিতিতে প্রায় ৩৭ কোটি টাকার বিদেশি মদ ধ্বংস করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদকসহ সব অপরাধের মূল। যেখানে মাদক আছে, সেখানে অবৈধ অস্ত্র থাকাসহ চোরাচালান, নারী পাচার, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেশি থাকে।
মাদক কারবারিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মাদক কারবারী কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সিন্ডিকেট পরিচালনা করে, যারা মূলহোতা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ। বিভিন্ন বিভাগে ডোপ টেষ্ট শুরু হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি শিক্ষকরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, র্যাব হবে মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক। র্যাব হবে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। র্যাব হবে সব পেশার মানুষের ভালোবাসার প্রতীক। যারা অপশক্তি, যারা এই মাদক কারবারী, মাদক কারবার পরিচালনা করে, যারা জঙ্গি তাদের জন্য র্যাব হবে আতঙ্কের প্রতীক।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে র্যাব ডিজি বলেন, আগস্ট মাসে পত্রিকার রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম কুমিল্লা থেকে কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর রকম ৫৫ জন নিখোঁজ ব্যক্তির নাম আসলো আমাদের কাছে। তাদের প্রতিজনের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি ৫৫ জন নয়, ৩৫ জন হিজরতের নামে চলে গেছেন। তারা আসলে কোথায় গেছেন তা খুঁজতে গিয়ে দেখলাম দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল টার্গেট করেছে। কোনো একটি সংগঠনের ছাত্রছায়ায় বান্দরবানের রামুতে একটি জায়গা নিয়েছে, সেখানে গাড়ি বা হেঁটে যেতে পারবে না। হেঁটে যেতে হলে প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ ঘন্টা লাগে। সেনাবাহিনী ও আমরা ড্রোনের মাধ্যমে জায়গা নির্ধারণ করে অভিযান চালাই। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও ২১টা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এখানো অভিযান চলমান রয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী ও র্যাবের অভিযান এটা। বিস্তারিত সবকিছু আমরা পরে জানাব। ১৭-২২ বছরের যুবকদের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে ওরা। আমরা এখন আপাতত সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। সেনাবাহিনী এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে, একজন ১০দিন যাবৎ না খেয়ে স্বইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আরেকজনের মরদেহ আমরা উদ্ধার করেছি কিছুদিন আগে।













