জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের ওষুধ খাতের উন্নয়ন, জাতীয় ওষুধনীতি বাস্তবায়ন ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করেছে সরকার। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যবিশিষ্ট এ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন— স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব।
এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি।
প্রকাশিত গেজেটে পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। পাশাপাশি দেশের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করবে পরিষদ।
এ ছাড়া অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি ওষুধের মধ্য থেকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের সুপারিশ করবে পরিষদ। একই সঙ্গে প্রতি দুই বছর পরপর ওই তালিকা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার বিষয়েও সুপারিশ প্রদান করবে।
ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং সরবরাহসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে পরিষদের ওপর। পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রয়ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সরকারকে পরামর্শ দেবে এই পরিষদ।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ বছরে কমপক্ষে দুইবার সভায় মিলিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক সভা আয়োজন করা যাবে। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে পরিষদ কো-অপ্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও রাখবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের এই আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।












