জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাজধানীর রায়ের বাজার কবরস্থানে নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে অপেক্ষা করতেন এক মা। নিয়মিতভাবে তিনি সেই স্থানে যেতেন। অবশেষে ১৬ মাস পর তার সন্তানের লাশ সেই একই গাছের নিচে থাকা কবর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, জুলাই বিপ্লবে নিখোঁজদের ডিএনএ সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে নিখোঁজ যোদ্ধাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রমাণ করে, সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, এবং তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এই কার্যক্রম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। ডিএনএ সংগ্রহ কার্যক্রম চলেছে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এতে নিজেদের স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার অংশগ্রহণ করে ডিএনএ নমুনা দিয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সিআইডি নিশ্চিত করেছে, এদের প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। শনাক্ত শহীদের নাম ও বয়স হলো— সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডি মানবাধিকার ও ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদানের দায়িত্ব দিয়েছে।












