• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বেগম খালেদা জিয়া রাজপথ থেকে বিশ্বমঞ্চের নেত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:৪১
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:৪১

6524

বেগম খালেদা জিয়া রাজপথ থেকে বিশ্বমঞ্চের নেত্রী

মেসবাহ শিমুল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া একটি অনিবার্য নাম। গণমানুষের ভেতর থেকে যার উৎপত্তি। উল্কার মতো দুর্দমনীয় যার গতি। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সুজলা-সুফলা আমাদের মাতৃভূমির প্রতিটি ইঞ্চিতে বটবৃক্ষের শিকড়ের মতো প্রোথিত যার জনপ্রিয়তার শিকড়। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে মাঠের তুখোড় রাজনীতিক আর অন্দর থেকে বিশ্বমঞ্চের নেত্রী হয়ে ওঠা এই মহিয়সীর জীবনটা হয়তো আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই হতে পারতো। কিন্তু সেটি হয়নি। ইতিহাসের অমোঘ বাস্তবতায়, যুগসন্ধিক্ষণের চাহিদায় তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্তকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। সহধর্মীনি বেগম খালেদা জিয়া তখন পুরোদস্তুর গৃহিনী। এরপর নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিতে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। তারপর শুরু হয় তার রাজনৈতিক জীবন। ওই বছরের ৭ই নভেম্বর তিনি শহিদ জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে প্রথম জনসম্মুখে বক্তব্য রাখেন।
এর আগেই ক্যু’র মাধ্যমে নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে অবৈধভাবে ওই বছরর ২৪শে মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও স্বৈরশাসকরূপে আবির্ভূত হওয়া এইচএম এরশাদ। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান হন এবং এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে বিএনপির এক বর্ধিত সভায় তিনি ভাষণ দেন। ওই বছরই বেগম খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। এই সময়ের মধ্যে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। এরপর ১৯৮৪ সালের ১০ই মে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদ বিরোধী অন্যান্য দলের নেতাদেরও নেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি। শুরু হয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার সাহসী অভিষেক। রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রধান নেত্রী। তাকে ঘিরে দেশের বৃহত্তম রাজনীতি আবর্তিত হয়। আন্দোলন সংগ্রামে এরশাদ সরকারের রোষানলে পড়ে বেশ কয়েকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়। একই সঙ্গে বিএনপি ও দেশের হাল ধরেন শক্ত হাতে। সে সময় মিডিয়ার এমন রমরমা অবস্থা ছিলো না। তবুও খুব অল্প সময়েই সারাদেশে খালেদা জিয়ার ব্যাপক পরিচিতি গড়ে উঠে। তার নেতৃত্বে টানা নয় বছরের আন্দোলনে জেনারেল এরশাদের পতন ঘটে। দেশে ফিরে আসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ১৯৯১ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর এই নির্বাচনই ছিলো সবচেয়ে সুষ্ঠু ও কাঙ্খিত নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। আর রাজনীতিতে আসার মাত্র ১০ বছরের মাথায় একজন সাদামাটা গৃহবধু থেকে হয়ে যান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন, স্বল্পভাষী কিন্তু অধিক ধীশক্তি সম্পন্ন। তিনি দেশের তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী। জীবনে যতগুলো নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়েছেন তার প্রত্যেকটিতেই তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। বাংলাদেশের যে প্রান্তেই গিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা আর অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। খালেদা জিয়া দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পাহাড়সম আবেগ-ভালোবাসা আর আস্থার নাম।
এই ভূখন্ডে বেগম খালেদা জিয়া অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব। তার শাসনকালে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি, সংস্কৃতি-অর্থনীতি, সামাজিক ন্যয় বোধ ও কূটনীতি সবগুলো দিক থেকে বাংলাদেশ ছিলো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাছে অনুকরণীয়। বিশ্ব দরবারে তার ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়। তার ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং দেশ নিয়ে তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা বিশ্বনেতাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নত ধারণা পোষণ করতে শুরু করে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ। কিন্তু সেটি সহ্য হয়নি এদেশের একটি গোষ্ঠীর। যারা গণতন্ত্র হত্যাকারী। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার লুণ্ঠনকারী। নব্য স্বৈরাচার ওই গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে খালেদা জিয়া একটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন মামলায় ২০১৮ সালে কারাবরণ করেন। বর্তমানে তিনি কারাগারের বাইরে থাকলেও রয়েছেন অবৈধ সরকারের ধরাবাধা নিয়মের বেড়াজালে বন্দি অবস্থায়। তারপরও তিনি দল ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। বিএনপির সাম্প্রতিক সময়ের যে গণআন্দোলন সেসব আন্দোলন সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেন এখনো ঠিক আগের মতোই প্রাসঙ্গিক। তার নামেই অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আবেগ তাড়িত হয় দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। কেবল দল নয় এদেশে তার রয়েছে অগুণতি মজ্জাগত সন্তান। এইসব সন্তানরাই আগামীর বাংলাদেশ। আর বেগম খালেদা জিয়া সেই বাংলাদেশেরই নেত্রী। এদেশের মাটি ও মানুষই তার সবচেয়ে আপন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com