জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ ক্ষেত্রে কোটা ব্যবহারের সর্বোচ্চকরণ, রোস্টার ব্যবস্থাপনা, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ এবং কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে কার্যকরভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে সরকার।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ। দুই দেশের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে এম্প্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং এ ক্ষেত্রে দেশটির সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের শ্রম ও দক্ষতা দেশটির বিভিন্ন খাতের কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ইপিএসের আওতায় বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এই অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, কোটা ব্যবহারের সর্বোচ্চকরণ, রোস্টার ব্যবস্থাপনা, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া, কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণ এবং কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।
দুই দেশের শ্রম অভিবাসন সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ সম্প্রসারণে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এছাড়া, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ অতিরিক্ত কিছু খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সদয় বিবেচনা প্রত্যাশা করেন তিনি।
হান উনসুক জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএস পদ্ধতির মাধ্যমে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে তারা যেমন আন্তরিক, তেমনই কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যেন শতভাগ স্বচ্ছ হয় সে বিষয়েও তারা সমান সতর্ক। ইপিএস পদ্ধতির এই স্বচ্ছতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে ইপিএসের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।













