জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জনগণকে বিভ্রান্ত করে যারা ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে তাদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময় এমনটি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে কাউকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে দেওয়া হবে না।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) জেলার ডুমুরিয়ায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজিত প্রার্থনা ও সনাতনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে টুকু বলেন, ‘ধর্মকে পণ্য বানিয়ে যারা ভোটের বাজারে নেমেছে, তারা আসলে মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
কোরআনেও বলা আছে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কিন্তু একটি দল ধর্ম বিক্রি করে ক্ষমতায় যেতে চায়।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো গল্প নয়, কোনো সুবিধাজনক ব্যাখ্যার বিষয় নয়, এটি ছিল পতাকা, মানচিত্র ও সার্বভৌমত্বের যুদ্ধ।’
সনাতনী ঐক্যজোট ডুমুরিয়া উপজেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক প্রফুল্ল রায়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা দাবি করে জনগণের ইতিহাস চুরি করেছে। অথচ ১৯৭১ সালে তারাই ছিল জনগণের বিপক্ষে। যারা সেই সময় যুদ্ধ দেখেনি, অস্ত্র ধরেনি, মায়ের বুক খালি হতে দেখেনি তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেশন দেয়।’
নিজের মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছি।
আমরা যুদ্ধ করে পেয়েছি একটি মানচিত্র, একটি পতাকা, একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু সেই দল যুদ্ধের সময় জনগণের পাশে ছিল না, বরং বিরোধিতা করেছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘২০২৪ সালের ঘটনাবলীকে সামনে এনে একটি মহল ১৯৭১ সালের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু ৭১ ছিল পতাকার যুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ। সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।
’
সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। পাহাড় থেকে সমতল সবাই বাংলাদেশি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার রক্তের রং এক। আমরা সবাই মানুষ, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃত করে টুকু বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু রঙের, বহু বিশ্বাসের মানুষের দেশ। এটাই মানবিক বাংলাদেশ, আর মানবিক বাংলাদেশই বিএনপির রাজনীতি।’
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ধানের শীষ জনগণের হাতে উঠে গেছে। খুলনা জেলাজুড়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।’
প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা এক সময় আওয়ামী লীগ করেছে, আবার সময় বুঝে অন্য পরিচয় নিয়েছে জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। বর্ণচোরা রাজনীতি করে আর মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা- ৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি।













