ডেস্ক নিউজ
মৃত, কারাবন্দি, বিদেশে চিকিৎসাধীন এবং প্রবাসী নেতাকর্মীর নামে মামলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে মামলায় এ রকম আসামি রয়েছেন। মামলায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাসহ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিএনপি একে ‘গায়েবি মামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার নোয়াখালীর বসুরহাটে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন থানায় মামলা করেন। মামলায় বিএনপির ৯৩ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি আড়াইশ। এর মধ্যে ৪৯ নম্বর আসামি বসুরহাট পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজাম উদ্দিন দীপু। তিনি ২০১৮ সালে মারা গেছেন।
প্রায় পাঁচ বছর আগে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। প্রয়াত দীপুর ছোট ভাই বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন টিপু জানান, তাঁর বড় ভাই আমেরিকা প্রবাসী ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট মারা যান তিনি। তাঁকে এ মামলার আসামি করায় পরিবারের সবাই হতবাক।
ওই মামলায় প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম। তিনি স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৫ জুন থেকে ব্যাংকক অবস্থান করছেন। ফখরুল টেলিফোনে সমকালকে বলেন, ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীকে আহত করে আবার মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাদেকুর রহমান জানান, প্রধান আসামি বিদেশে ছিলেন কিনা কিংবা মৃতকেও আসামি করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
গত শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পৌর শ্রমিক লীগের নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ২৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে রেজাউল করিম রকিকে। থানা ছাত্রদলের এ আহ্বায়ক গত ৮ মে থেকে কারাবন্দি। ২৪ নম্বর আসামি দিদার ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
তবে বিক্ষোভ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন এবং ঘটনাস্থলের ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, মিছিলের শোরগোল কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটলে সবাই জানত।
সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন নৈশপ্রহরী বলেন, সেদিন রাত ২টার দিকে একটি অটোরিকশার টায়ারে দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আগুন লাগিয়ে এবং পটকা ফুটিয়ে চলে যায়। তিনি সেই আগুন নেভানোর পর পুলিশ আসে। পরে শোনেন এ নিয়ে মামলা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে হয়রানির জন্য এ গায়েবি মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী জয়নাল আবেদীনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নির্যাতনের শিকার, তবু কারাগারে
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামে তাঁদের ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ যোগ দিতে আসা নাদিয়া নুসরাত নামে ছাত্রদলের এক নেত্রী যৌন ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। উল্টো তিনি এখন গায়েবি মামলায় কারাগারে আছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে উল্টো নুসরাতকে গায়েবি মামলায় ফাঁসানো আরেকটি বর্বরতা।












