জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জুলাই গণ-আন্দোলনে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য হলেও আন্দোলনের পর রাষ্ট্র-রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে তারা কার্যত ‘ব্রাত্য’ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বামপন্থী নেতারা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।
আজ শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটি।
সভায় বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘নারী দিবসে শুধু নির্যাতনের কথা বললে হবে না, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের সংকটের কথাও বলতে হবে। দেড় বছর আগে রাজপথে যে বৈষম্য নিরসনের স্লোগান শুনেছিলাম, গত ১৮ মাসে তা অদৃশ্য হয়ে গেছে। জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র বা পরিবার—কোথাও বৈষম্য কমেনি। এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’
সভাপ্রধানের বক্তব্যে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বর্তমান রাজনীতির একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই মূলত একটি পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী ভোটার ৫১ শতাংশের বেশি থাকলেও ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮৬ জন। সংসদ সদস্য হতে পেরেছেন মাত্র ৭ জন আর বিশাল মন্ত্রিসভায় নারী মাত্র ৩ জন। বর্তমান রাজনীতিতে নারীর অবস্থান বোঝার জন্য এই সংখ্যাগুলোই যথেষ্ট।’
সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি উপেক্ষা করার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কার নিয়ে অনেক কথার ফুলঝুরি আমরা দেখেছি, কিন্তু বাস্তবতা হলো সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের এখনও পুরুষ সদস্যরাই নির্বাচন করবেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত মূল ধারণাপত্রে উল্লেখ করেন, পুঁজিবাদ নারীকে কেবল পণ্য হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক, কারণ যেকোনো ব্যবস্থা বদলের জন্য পিতৃতন্ত্র নারীর অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করে তোলে। কিন্তু ক্ষমতা বদলের পর আবারও নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের পুরনো চিত্রই ফুটে উঠছে।’
সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নারী শাখার সম্পাদক মমতা চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আখতার বানু, বাংলাদেশ বস্তিবাসী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কুলসুম বেগম ও কৃষক সমিতির নেত্রী লাকি আক্তার।












