নিউজ ডেস্ক
এক দশক পর প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরা জামায়াতে ইসলামীকে রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সমকালকে বলেছেন, জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় উত্তর গেটে সমাবেশ করতে চেয়েছিল দলটি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত লিফলেট বিতরণ, থানায়-ওয়ার্ডে সভাসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, বায়তুল মোকাররম না পেয়ে অন্য কোথাও বা কোনো বদ্ধ মিলনায়তনে সমাবেশ করতে রাজি ছিল জামায়াত। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামা বিএনপি অনুমতি পেলেও জামায়াতকে কোথাও কর্মসূচি করতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে। দলটির পক্ষে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান সমকালকে বলেছেন, কী কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি- তা জামায়াতের নেতাদের জানানো হয়েছে।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, শনিবার বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচিতে মারমুখী ছিল পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় সংঘাত করে সমাবেশ করবে না জামায়াত। আগামী শুক্র অথবা শনিবার সমাবেশ করতে ফের অনুমতি চাওয়া হতে পারে। অথবা অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হতে পারে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেছেন, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পুলিশের অনুমতি নিয়ে ১০ বছর পর গত ১০ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ফলে দীর্ঘদিন কোনঠাসা থাকা জামায়াত। এটা রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন ওঠে। এর মধ্যে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্বও প্রকাশ্যে আসে। ডাক না পাওয়ায় বিএনপির একদফার আন্দোলনে যোগ না দিয়ে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেয় আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াত।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াতের সকল সাংগঠনিক মহানগর ২৮ জুলাই এবং সকল সাংগঠনিক জেলা ৩০ জুলাই বিক্ষোভ মিছিলের জন্য পুলিশকে অবহিত করে। কিন্তু কোথাও অনুমতি পায়নি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিভিন্নস্থানে মিছিল করে। চট্টগ্রামে সংঘর্ষ হয়।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম সোমবার বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৮ এবং ৩০ জুলাই মিছিলে সাড়া দিয়ে জনগণ জালেম সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর নৈতিক অধিকার নেই। গত পাঁচদিনে সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলার সেক্রেটারিসহ দলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার এবং জিনিসপত্র ভাঙচুর-লুট করা হচ্ছে।













