• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

দ্বন্দ্বের প্রতিফলন লং মার্চ

প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪৮
আপডেট: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪৮

দ্বন্দ্বের প্রতিফলন লং মার্চ

দ্বন্দ্বের প্রতিফলন লং মার্চ

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ছয় দফা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। কর্মসূচির দাবিগুলোর মধ্যে আছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির অবসান।

এসব দাবি নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু করেছে জোটটি।
এসবের কোনোটিই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। নিত্যপণ্যের দাম, জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। জামায়াত ও তাদের মিত্ররা এসব কথা বলছে বলে বিএনপি সরকারের উচিত হবে না মানুষের এই ক্ষোভকে উড়িয়ে দেওয়া।

তবে একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ: এই আন্দোলন কি সত্যিই মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য, নাকি ধীরে ধীরে এটি রাজনৈতিক চাপ তৈরি ও অস্থিরতা বাড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠছে?

দ্বন্দ্বগুলো চোখে পড়ার মতো। প্রথমত, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে। জামায়াত ও এনসিপি এমনভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে, যেন গণভোটের ফলেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি বিতর্কিত সংস্কার প্রস্তাবের সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।

সংস্কারের পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেটকে শেষ পর্যন্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিতে হবে। গণভোট কোনো সংস্কারকে রাজনৈতিক বৈধতা দিতে পারে; কিন্তু এর মাধ্যমে সংসদ, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া বা সাংবিধানিক কাঠামোকে পাশ কাটানো যায় না।
বিএনপির অবস্থানও সমালোচকরা যেভাবে তুলে ধরছেন, বিষয়টি ততটা সরল নয়। গণভোটের আগে বিএনপির মুখপাত্র বলেছিলেন, দলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে এবং যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পরে সংসদে আলোচনা করা হবে। সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবেও বিএনপির আপত্তি ছিল।

দলটির যুক্তি ছিল, এ ধরনের কোনো সংস্থা নিয়ে ঐকমত্য হয়নি এবং সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদেরই নেওয়া উচিত—কোনো অনির্বাচিত বা সংবিধানের বাইরে থাকা ব্যবস্থার নয়।
এটি একটি বৈধ সাংবিধানিক অবস্থান। এর সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়। কিন্তু জামায়াত, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি বর্জন করেছে। জামায়াত সেখানে সদস্য মনোনয়নও দেয়নি। এর পরও কমিটি কাজ শুরু করেছে। পুরো সংবিধান পর্যালোচনা এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়: সংবিধান সংস্কার যদি সত্যিই প্রধান অগ্রাধিকার হয়, তাহলে যে সংসদীয় মঞ্চে এসব বিষয়ে আলোচনা, সংশোধন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে, সেটি বর্জন করা হচ্ছে কেন? এর পেছনে হয়তো রাজনৈতিক চাপ তৈরির হিসাব আছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে সরকারকে নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী গণভোটের ফল ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানালে বিষয়টি সংসদীয় আলোচনার বদলে রাজপথেই ধরে রাখা যায়।

কিন্তু সাংবিধানিক গণতন্ত্র এভাবে চলার কথা নয়। আন্দোলনের ভাষাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জোটের নেতারা বারবার কর্মসূচি আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আবারও গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন কেউ কেউ। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে জনরোষের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জোটের অন্য নেতাদের বক্তব্যেও সরকারের প্রতি ক্রমেই আক্রমণাত্মক ভাষা দেখা যাচ্ছে।

বিরোধী দলের মিছিল, সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক চাপ আর রাজনৈতিক ভয় দেখানোর মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা আছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত একটি সরকারের কর্তৃত্ব কেবল রাজপথের আন্দোলন বড় হয়ে উঠেছে বলে ছেড়ে দেওয়ার কথা নয়।

জ্বালানি নিয়ে জোটের অবস্থানেও একটি বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। জোটটি জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ভোগান্তির প্রতিবাদ করছে। অথচ শুরুতে তাদের পরিকল্পনায় ছিল ৫ থেকে ৬ হাজার গাড়ির বহর। পরে জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তির কথা বলে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ১ হাজার করা হয়। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতারা জানান, গাড়ির সংখ্যা আবার বেড়ে প্রায় দেড় হাজার হয়েছে।

এখানে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠতেই পারে—এত বড় কর্মসূচির অর্থের জোগান আসছে কোথা থেকে? শুধু গাড়ির বহর দেখেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা যায় না। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এত গাড়ি নিয়ে কর্মসূচি করতে জ্বালানি, চালক, খাবার, প্রচার ও অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যয় লাগে। যে রাজনৈতিক জোট রাষ্ট্রের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করছে, তাদের নিজেদের এই বিশাল আয়োজনের অর্থায়নের বিষয়টিও পরিষ্কার করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

জামায়াত জোটের লং মার্চ কর্মসূচির কারণে জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “রাস্তাঘাট বন্ধ রাখায় ও ১ লাখ লিটার তেল অপচয় করার কারণে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে।”

স্বচ্ছতা একমুখী হতে পারে না। জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জোটের দাবিগুলোই বরং জনসমর্থন পাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। কিন্তু এসব সংকটের সমাধান দরকার নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে, রাজনৈতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে নয়। সরকারকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্থিতিশীল করতে হবে, সারের সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। পাশাপাশি মজুতদারি, বাজার কারসাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাই জামায়াত ও এনসিপি এসব দাবি তুলছে বলে বিএনপি সরকারের উচিত হবে না সব সমালোচনাকে এক কথায় বাতিল করে দেওয়া। মানুষের ক্ষোভ বাস্তব। সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে তার জবাব দিতে হবে। তবে বিরোধীদেরও নিজেদের দাবি করা জবাবদিহির মানদণ্ড নিজেদের ক্ষেত্রেও মানতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং এনসিপির বর্তমান মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আসিফ মাহমুদেরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার আছে এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: কোনো দলই সততার ওপর একচেটিয়া অধিকার দাবি করতে পারে না এবং একই সঙ্গে অন্য সবার জবাবদিহি চাইতে পারে না। এনসিপি যদি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলে, তাহলে তাদের উচিত হবে তদন্তকে স্বাগত জানানো, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া।

জামায়াতও নৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে কম অস্বস্তিকর পরীক্ষার মুখে পড়েনি। জুলাই মাসে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। তাঁকে নিয়ে একটি ভিডিও এবং এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগের পর দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক অসদাচরণের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

নজরুল অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করে বলেন, ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে নির্বাচন কমিশনও স্পষ্ট করে জানায়, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই কোনো সংসদ সদস্যের আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না।

তবু ঘটনাটি এমন একটি দলের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করে, যে দল নিজেকে ইসলামী নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে। অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত ব্যবস্থা নিয়েছে—অভিযোগ উপেক্ষা করার চেয়ে এটি অবশ্যই ভালো। কিন্তু ঘটনাটি এটাও মনে করিয়ে দেয়, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে স্বভাবগতভাবে বেশি নৈতিক বলে দাবি করতে পারে না।

এ ঘটনা সংসদ সদস্যদের আচরণ ও নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জামায়াতের কর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দলটির এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও আছে। অবশ্যই অভিযোগের নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়াতেই হতে হবে। একটি ব্যক্তিগত ঘটনায় পুরো দলকে দায়ী করাও ঠিক হবে না। কিন্তু যে দল রাজনীতির কেন্দ্রে নৈতিকতাকে রাখে, তাদের বুঝতে হবে—তাদের সদস্যদের আচরণও সেই মানদণ্ডেই মানুষের নজরে পড়বে।

একই কথা প্রযোজ্য অপতথ্যের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বানানো তথ্য, বিকৃত ভিডিও ও দলীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্যের প্রবণতা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো দলই পুরোপুরি দায়মুক্ত নয়। তবে যারা নিজেদের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চান, তাদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা যেন তথ্য ও যুক্তির বিকল্প হয়ে না ওঠে।

এর সঙ্গে ইতিহাসের প্রশ্নটিও আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকা পাশ কাটিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে কথা বলা কঠিন। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু পুনর্বাসন মানে ইতিহাস ভুলে যাওয়া নয়। জাতীয় নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা থাকা কোনো রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক পরিচয় এবং রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভিত্তিকে পুরোপুরি গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

সরকারেরও দায়িত্ব কম নয়। জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট, বিদ্যুৎ–বিভ্রাট, মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত সামলাতে হবে। কীভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা হবে, তার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে আনতে হবে। বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে, দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিরোধী কর্মসূচি পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে; তবে সহিংসতা, ভয় দেখানো ও জনজীবনে অযথা বিঘ্ন ঠেকাতেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

এখন জামায়াত ও এনসিপিকেও ঠিক করতে হবে, তারা কী ধরনের বিরোধী রাজনীতি করতে চায়। তারা চাইলে একটি দায়িত্বশীল সংসদীয় বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে পারে—আইন পর্যালোচনা করবে, বিকল্প প্রস্তাব দেবে, সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে জনমত গড়ে তুলবে।

অথবা তারা প্রতিটি মতপার্থক্যকে রাজপথের নতুন সংঘাতের কারণ হিসেবে দেখাতে পারে এবং প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধকে আরেকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের’ হুমকিতে পরিণত করতে পারে। সংঘাতের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভয়াবহ মূল্য দিয়েছে।

তাই বিরোধীদের উচিত কথার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা। গণভোটের ব্যাখ্যার পক্ষে যদি সত্যিই জনসমর্থন থাকে, তাহলে সেই ব্যাখ্যা সংসদে তুলে ধরতে হবে। সরকার জ্বালানি, দ্রব্যমূল্য বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ব্যর্থ হলে তার বিস্তারিত বিকল্প পরিকল্পনা দিতে হবে। মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি দাবি করলে নিজেদের নেতাদেরও একই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নির্বাচিত সরকারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন ভাষা রাজনৈতিক নেতাদের পরিহার করা উচিত। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি সতর্কবার্তা হওয়া দরকার, নতুন সংঘাতের আহ্বান নয়।

গণভোট সংসদকে বাতিল করে না। নির্বাচন কোনো সরকারকে সীমাহীন ক্ষমতা দেয় না। আবার আগামী নির্বাচনে জিততে হলে আজকের দিনে অস্থিরতা তৈরি করাই বিরোধী দলের কাজ হতে পারে না। গণতন্ত্রে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ জনগণ, ভোটের বাক্স ও সংসদের মধ্য দিয়ে—আরেকটি সহিংস ‘গণঅভ্যুত্থানের’ হুমকির মধ্য দিয়ে নয়।

বিএনপি সরকারকে আরও ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে। বিরোধীদেরও দায়িত্বশীলভাবে বিরোধিতা করতে হবে। এটাই গণতান্ত্রিক সমঝোতা। বাংলাদেশের প্রয়োজন কার্যকর প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং বিশ্বাসযোগ্য বিরোধী দল। কে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে—এমন আরেকটি প্রতিযোগিতা নয়।

লং মার্চ হয়তো সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির আসল পরীক্ষা হবে ক্যামেরা সরে যাওয়ার পর, যখন সংসদ আবার তার কাজ শুরু করবে। তারা যদি সত্যিই সংস্কারে বিশ্বাস করে, তাহলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে এসে সেই সংস্কারের জন্য লড়াই করাই হবে তাদের দায়িত্ব।
আ/আ


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com