নির্বাচন নিয়ে ‘সরকার দুঃস্বপ্ন’ দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কথা বলছেন, অনেকে ইভিএমের কথা বলছেন, যাওয়া না যাওয়ার কথা বলছেন। উনারা কিন্তু দুঃস্বপ্ন দেখছেন। উনারা ভাবছেন এই সমস্ত বলতে বলতে বোধহয় নির্বাচনের দিন পার হয়ে যাবে। ওই গান এবার হবে না।’
শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের কালসীতে এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। মহানগর উত্তর পল্লবী জোনের উদ্যোগে জ্বালানি তেল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের হত্যাসহ সারাদেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবী জোনের একই কর্মসূচিতে আয়োজিত সমাবেশটি পুলিশি বাধায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
গত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু বলেন, বিগত দিনে আমাদেরও দোষ আছে, আমরাও সুযোগ দিয়েছিলাম তাদেরকে এরকম একটা নির্বাচনের জন্য। আমাদের নেতাকর্মীরা কষ্ট পেয়েছে, প্রাণ দিয়েছে, জেলে গেছে। দুর্বৃত্তায়নে আরেকটা নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এবারও যারা সেই স্বপ্ন দেখছেন, বৃথা স্বপ্ন দেখবেন না। এই স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে। আজকে দুই বেলা খেতে পারছে না, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল দিতে পারছে না। এখন তো বিদ্যুতের বিল দেয়া দরকার নাই। শেখ হাসিনা বলছেন, আপনারা চেরাগের জন্য তৈরি হোন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ইনশাল্লাহ চেরাগের জন্য তৈরি হতে হবে না, তার আগেই আপনাকে বিদায় নিতে হবে। এই দেশ চেরাগের দেশ নয়, এই দেশ আলোকিত বাংলাদেশ, শহীদ জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ, এই দেশ তারেক রহমানের বাংলাদেশ। চেরাগের দিন আমরা আনতে দেব না।
আমীর খসরু আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। আমাদের আস্থা জনগণের ওপর। এই লাখ লাখ জনতার সামনে যারা দাঁড়াবে তারা জনগণের জোয়ারে ভেসে যাবে। আমার শেষ কথা- রাস্তায় নেমেছি, বাড়ি ফিরে যাব না। যেদিন বাড়ি ফিরে যাব, সেদিন স্বাধীন বাংলাদেশ করে বাড়ি ফিরে যাব। তার জন্য প্রাণ দিতে হয়, প্রাণ দেব।
এ সময় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠন করে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ এর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাইফুল আলম নিবর, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজ্নু, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।












