জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এখন যারা সরকার গঠন করেছেন তারাও মজলুম ছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমরা তা মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি। যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তবে জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে।’
শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ হয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। ইনশাআল্লাহ, আমাদের এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রিয় সিলেটবাসী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন। ডাক এলে সবাইকে সাড়া দিতে হবে। ঘরে ঘরে সেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।’
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের রেশ ধরে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জামায়াতে ইসলামী, নাহিদ ইসলাম আর মাওলানা মামুনুল হক চাইলে এক সপ্তাহে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে পারবেন।
দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধারাবাহিক কর্মসূচির পর সিলেটের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জোটের বর্তমান দফার কর্মসূচি শেষ হয়েছে। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের মানুষ জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে লড়েছিলেন। সেই সিলেটের কিছু ন্যায্য দাবি যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে, বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রবাসীবহুল এলাকা হিসেবে নামমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, এখনো তা পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। আজকের এই সমাবেশ থেকে দাবি করছি অবিলম্বে সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন।’ আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ, জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকের এই বিভাগীয় সমাবেশ আমাদের শেষ সমাবেশ। সারা বাংলাদেশ আমরা ঘুরেছি। মানুষের একই দাবি-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। এখন আমাদের হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়। আমরা আমাদের শহিদদের সঙ্গে বেইমানি করব না। জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না।’
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ তারা পূর্ণ করতে পারবে না।’ তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তিনি কি পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার যে করুণ পরিণতি হচ্ছে, সেই পরিণতি ভোগ করতে চান, সেই সিদ্ধান্ত তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’
বক্তব্যের শুরুতে ভারতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে শুভেচ্ছা জানান নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার যেখানে ছাত্র-জনতার প্রতি সতর্ক ও শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে অবজ্ঞা করছে।












