• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিদ্রোহীদের কারণে জামায়াতের কাছে ২১ আসন হারাল বিএনপি

প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩০
আপডেট: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩০

96520003

বিদ্রোহীদের কারণে জামায়াতের কাছে ২১ আসন হারাল বিএনপি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যুতে অস্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে ৭৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দলটির নেতারা। সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে এসব প্রার্থীকে বহিষ্কার করে বিএনপি। একই সঙ্গে বিদ্রোহের ঘটনায় আরও অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কয়েকটি কমিটিও স্থগিত করা হয়।

নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র সাতজন জয় পেয়েছেন। তবে তাদের অংশগ্রহণে ভোট বিভক্ত হওয়ায় জটিল সমীকরণ তৈরি হয়। এর ফলে ২১টি আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা পরাজিত হন। এসব আসনে মূল সুবিধা পায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জোটসঙ্গীরা।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয় পাওয়া আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, কুমিল্লা-৭ ও চাঁদপুর-৪; ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল-৩ ও কিশোরগঞ্জ-৫; রংপুর বিভাগের দিনাজপুর-৫ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ-১ উল্লেখযোগ্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-2 আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। কুমিল্লা-৭ আসনে বিদ্রোহী আতিকুল আলম শাওন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে দলীয় প্রার্থী পান ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিদ্রোহী মোহাম্মদ সালমান ওমর প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ এক লাখের বেশি ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে দলীয় প্রার্থী পান ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট।

অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা ৫০টি আসনে জয়লাভ করে। পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, মানিকগঞ্জ-১ এবং রাজশাহী-৫ আসনেও দলীয় প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের পরাজিত করে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।

তবে বিদ্রোহের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় ২১টি আসনে। ভোট বিভক্ত হওয়ায় এসব আসনে জামায়াত ও তাদের জোটের প্রার্থীরা জয়ী হন। নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতের আবদুল মুনতাকিম ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে জয় পান, যেখানে বিএনপি প্রার্থী পান ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।

একইভাবে সিলেট-৫, নোয়াখালী-৬, পাবনা-৩ ও ৪, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-৫, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২ ও ৫, নড়াইল-২, বাগেরহাটের তিনটি আসন, সাতক্ষীরা-৩, শেরপুর-১, ঢাকা-১২, মাদারীপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনেও জামায়াত বা তাদের জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

বিশেষ করে খুলনা বিভাগে বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিভাগে আটটি আসন হাতছাড়া হয়েছে দলটির।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসান ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, যিনি পান ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।

সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি একদিকে কিছু আসনে জয় পেলেও অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ২১টি আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ায় জামায়াত ও তাদের জোট সরাসরি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com