আলোচনা সভা, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের মহান গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদ দিবসে তার স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।
গতকাল আজ শুক্রবার সকালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন আসাদ স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এসময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান, আনছার আলী দুলাল, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, ঢাকা মহানগরীর কামরুজ্জামান ফিরোজ, মীর রেজাউল আলম, জোনায়েদ হোসেন প্রমুখ।
শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সাইফুল হক বলেন, যাদের রক্তে বাংলাদেশ ও তার স্বাধীনতা শহীদ আসাদুজ্জামানসহ তারা আজ বিস্মৃত ও উপেক্ষিত; রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাদের স্মরণ করা হয় না। জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আসাদের রক্তেভেজা পথ বেয়েই ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আর ’৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম।
তিনি বলেন, আসাদ ছিলেন সাম্যবাদী গণতন্ত্রী, এ দেশের মানুষের অধিকার আর মুক্তির জন্যই তিনি জীবন দিয়েছিলেন। আসাদের মন্ত্র ছিল জনগণতন্ত্র। কিন্তু আজ ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্র নির্বাসিত, দেশের জনগণ কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনে পিষ্ঠ; দেশ ও দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিপজ্জনক খাদের কিনারায়।
বাংলাদেশ ন্যাপ
বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেছেন, শহীদ আসাদের আত্মদান এতটাই ভারী ছিল, তার পথ ধরে চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্বৈরশাসকের দীর্ঘদিনের সাজানো মসনদ। তার রক্তের পথ বেয়েই ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদ আজ অবহেলিত। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনের জাদু মিয়া মিলনায়তনে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কামাল ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতা স্বপন কুমার সাহা, মো. মহসীন ভুঁইয়া, অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, এখলাস হক, মিতা রহমান, মো. আমজাদ হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
জাগপা
এদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান ও মহাসচিব এস এম শাহাদাত এক বিবৃতিতে বলেন, শহীদ আসাদের রক্তে ভেজা সিঁড়ি বেয়েই কিন্তু আমাদের গণতন্ত্রের লড়াই সফল হয়েছিল। কিন্তু সেই গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। মানুষের ভোটাধিকার নেই। দিনের ভোট রাতেই ডাকাতি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আসাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।












