জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একসময় ভারত সফরে যাচ্ছেন যখন দেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যহীন অবস্থা দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন জেএসডি সভাপতি।
রব বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ পরিহার করা। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বহির্বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত মিত্রতা বজায় রাখাও আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য।
জেএসডি সভাপতি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, বৈশ্বিক সংকট এবং করোনা উত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে ‘বন্ধুসুলভ’ অথবা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ খেলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে দুরদর্শী, উইন-উইনভিত্তিক ও ভারসাম্যমূলক।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আমাদের উভয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক লক্ষ্য অর্জনে বন্ধুত্বের মেরুকরণ অবশ্যই একমুখী না হয়ে দ্বিমুখী হবে। ট্রানজিট ও তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে সুরক্ষা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধ করাই হবে ভারতের সঙ্গে আমাদের মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এটা অর্জন করা মোটেই অসম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের বিপরীতে অবস্থান না নিয়ে জনগণের অভিপ্রায় ভিত্তিক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে। আর তা অনুসরণ করতে না পারলে দেশের অভ্যন্তরে ও ভূ-রাজনীতিতে বড়ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে যা আমাদের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলবে। এটা কারো কাম্য হতে পারে না।












