• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে কে হবেন মহাসচিব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৮
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৮

960000240

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে কে হবেন মহাসচিব

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত। তিনি বঙ্গভবনে নতুন বাসিন্দা হয়ে গেলে শূন্য হবে দলের মহাসচিবের পদ। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে দলের ভেতরে নতুন হিসাব-নিকাশ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া মহাসচিব পদে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিবের অনুপস্থিতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। সেদিক থেকে রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে আছেন। কিন্তু স্থায়ী কমিটির মধ্যে এই ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা গেছে। সিনিয়র অনেকের মতে, মহাসচিব পদটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের, তাই এই পদ পূরণ করা হোক স্থায়ী কমিটি থেকেই। তবে নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

আজ বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আজই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এর সঙ্গে সামনে চলে আসবে, ক্ষমতাসীন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের দৌড়ে কারা থাকছেন।

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে বিএনপির এবারের সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথাও বলে আসছে।

বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্ব-কর্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর হওয়ায় এখন পর্যন্ত পদটি অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বঙ্গভবনের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত হতে পরে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে বসছেন, তা বিএনপি বা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে কেবল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, দলের প্রতি আস্থাশীল এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সক্ষম।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পাশাপাশি দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মির্জা ফখরুলের পর মহাসচিব কে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি বিএনপিতে এখন সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হলে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন কে?

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমীকরণ, কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। ফলে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনাই আপাতত বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও বিবেচনায় রয়েছে।

দলের হাইকমান্ডের একটি অংশ মনে করেন, মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ হতে পারে। এই নিয়ে দলটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নতুন বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিব করার বিষয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও রিজভীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও তার পক্ষে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী খবরের কাগজকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ভালো জানেন।

ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করা হবে, নাকি সরাসরি নতুন মহাসচিব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে–এ নিয়েও বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব অসুস্থ, অক্ষম বা কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন–এমনটি রয়েছে বিএনপির গঠনতন্ত্রে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামে স্থায়ী কোনো পদ নেই। ফলে ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার স্থলে সাময়িকভাবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার বিধান থাকায় স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে হবে বিএনপিকে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির বাইরে থেকেও প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু একজন প্রার্থী মনোনয়নের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ ভারসাম্য, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন, দলের মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের হিসাব।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com