• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ময়মনসিংহ গণসমাবেশকে সফল করেছেন বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২ ২:৪১
আপডেট: সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২ ২:৪১

96602365

ময়মনসিংহ গণসমাবেশকে সফল করেছেন বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা

নানা বাধা-বিপত্তিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় গণসমাবেশের সফলতা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বিএনপি নেতারা। প্রথমে সমাবেশের অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের টালবাহানা, পরে বিভাগীয় শহরের সঙ্গে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা ও সমাবেশের পাশে মহড়ায় বেশ হতাশ হয়ে পড়েন দলটির নেতারা। অবশ্য সমাবেশ শেষে ওই নেতারাই বলছেন, একমাত্র বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দৃঢ়তা ও সাহসিকতায় এতসব প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গণসমাবেশ সফল হয়েছে। কর্মসূচি সফলতায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের এই অনড় মনোভাবে আগামী দিনের চূড়ান্ত আন্দোলন নিয়েও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেদের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে সমাবেশকে সফল করেছেন বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিকে সফল করতে মামলা-মোকদ্দমায় আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে এসেছেন। সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণেও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপির জনইস্যুভিত্তিক এসব কর্মসূচি ও জনসমাগমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরাও।

জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ চলমান আন্দোলনে ভোলায় নুরে আলম ও আবদুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আবদুল আলিমকে হত্যা, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিভাগীয় শহরে ১০টি গণসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের পর শনিবার ময়মনসিংহ বিভাগেও বড় ধরনের এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশকে ঘিরে পুরো বিভাগেই বিরাজ করে টানটান উত্তেজনা। অঘোষিত গণপরিবহন ‘ধর্মঘট’ থাকায় কার্যত ‘বিচ্ছিন্ন’ ছিল পুরো ময়মনসিংহ বিভাগ। এর পরও বিচ্ছিন্ন নগরেই দীর্ঘদিন পর বিভাগীয় পর্যায়ে বড় ধরনের গণসমাবেশ করেছে দলটি। গত কয়েক বছরে ছোট ছোট স্থানে সভা-সমাবেশ করলেও এবারের সমাবেশটি ছিল বড় ধরনের শোডাউন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর থেকে নেতাকর্মীরা কেউ শুক্রবার, কেউ শনিবার সিএনজি, অটোরিকশা, নৌকা, হেঁটে যে যেভাবে পেরেছেন সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। অনেকে হামলার আশঙ্কায় আগের দিন সমাবেশস্থলে এসে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করেন, অনেকে ফুটপাতে ঘুমান। এর মধ্যেও অনেকে হামলারমুখে পড়েন। অনেকে আহত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাবেশে ছিল উপচে পড়া উপস্থিতি। এতে ঝিমিয়ে পড়া নেতাদের মধ্যেও নতুন হাওয়া লেগেছে। আগামীতে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে এ সমাবেশকে তাঁরা ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

দলের জেলার নেতারা বলছেন, দলটি নগরীর সার্কিট হাউস ময়দান সমাবেশের জন্য চাইলেও শেষ মুহূর্তে শুক্রবার বিকেলে মাসকান্দার পলিটেকনিক মাঠে সমাবেশের জন্য অনুমতি দেয় প্রশাসন। এই মাঠেও যাতে কম লোকের সমাগম ঘটে এর জন্য নানা কৌশল করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসন। কিন্তু সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও জনস্রোত থামেনি। সরকারের প্রতিবন্ধকতায় বিএনপির প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন আরও বেড়েছে। সরকার পতনের আন্দোলনে সর্বস্তরের জনতার সম্পৃক্ততায় নবজোয়ার এসেছে। পুলিশের শান্তিপূর্ণ অবস্থান সমাবেশকে বিশৃঙ্খলামুক্ত থাকতেও ভূমিকা রাখে। সমাবেশকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই সফল পরিসমাপ্তি হয় সমাবেশের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন স্থানে বাধা ও গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছিল। তবুও মানুষজন হেঁটে সমাবেশে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে এসেছে। সরকার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেনি। জনসভা শেষ পর্য জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এ সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীরা সবাই আশাবাদী। চট্টগ্রামের গণসমাবেশে হাজার হাজার মানুষ ও নেতাকর্মীর স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, বিএনপি বাংলাদেশের সুসংহত, বৃহত্তর, গণতান্ত্রিক ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে।

বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সফল সমাবেশ সম্ভব হয়েছে নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই। জনগণ ও নেতাকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় গণসমাবেশ গণসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সরকারের অপকৌশলকে চপেটাঘাত দিয়েছে জনতা। এখন তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। গুলি, হত্যা, রক্তপাত, বাসায় বাসায় হামলা উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করেছেন তাঁরা।

ময়মনসিংহ জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনার ফলে মানুষের মধ্যে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন মানুষ জেগে উঠেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি নজরুল হায়াত বলেন, গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত হচ্ছে সহনশীলতা, মানুষের অধিকার, বাকস্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা থাকুক এটাই জনগণ চায়। সরকারি দলের সহিষ্ণুতা, প্রশাসনের সহযোগিতা ইতিবাচক দিক থেকে দেখি। বিএনপির জনইস্যুভিত্তিক এ সমাবেশ ও স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো।

বিএনপির চার শতাধিক নেতার নামে মামলা: ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন রাসুকে প্রধান করে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ জনকে আসামি করা হয়। শনিবার রাতে মামলাটি করেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা, পুলিশের আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
সূত্রঃ সমকাল


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com